প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ কাম্য

ধান-চালের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের ধান-চালের অবৈধ মজুতের তথ্য দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চালের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সোমবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি ভার্চুয়াল সভায় খাদ্যমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলায় কারা ধান-চালের ব্যবসা করছেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) তা খতিয়ে দেখবেন। ওই ব্যবসায়ীদের মধ্যে কারা অবৈধভাবে ধান-চালের মজুতকারী, তা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানাতে হবে।

মন্ত্রী যেভাবে বলেছেন, সেভাবে তদারকি করা গেলেই সুফল মিলবে, নয়তো নয়। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। প্রতি বছরই কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে সাময়িক অভিযান পরিচালনা করা হয়, পরে দেখা যায় অভিযানই থমকে গেছে।

মন্ত্রী কোনো নতুন কথা বলেননি। এসব সাধারণ মানুষেরও জানা। আমরা মনে করি, সরবরাহকারী, আড়তদার ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি বাড়ালে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কৃত্রিম সংকট তৈরিতে মজুতদারদের কারসাজি, বড় ব্যবসায়ীদের সংঘবদ্ধ তৎপরতা বড় ভূমিকা রাখে। চাল ব্যবসার সব পর্যায়ে নিবিড় নজরদারি করা গেলে চাল সংকট থাকবে না এবং দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

চালের দাম বৃদ্ধিতে আনুষঙ্গিক কিছু কারণও আছে। মহাসড়কে একাধিক স্থানে পণ্যবাহী ট্রাকে মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশের অবাধ চাঁদাবাজি পরিবহন ব্যয় বাড়ে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। ক্ষতি পোষাতে তারা দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন। ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি পাশাপাশি মহাসড়কে পুলিশ ও অন্য কোনো সংগঠনের চাঁদাবাজিও বন্ধ করতে হবে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, আড়ত থেকে যে দামে তারা চাল কেনেন, তার চেয়ে এক থেকে দেড় টাকা লাভ করেন কেজিপ্রতি। তাই আড়তে প্রকৃতপক্ষে কী দামে চাল বিক্রি হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। সরকারি গুদামে চালের মজুত বাড়ানো গেলে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ পাবেন না।

আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীÑএই তিন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছে সঠিক তথ্য পেলে মজুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তখন কারও পক্ষে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সম্ভব হবে না।

মন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ চালকল মালিক, চাল আমদানিকারক, চাল ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি। এসব সংস্থা সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে চালসহ সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। সবাই নিজের দায়িত্ব সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করলেই সুফল মিলবে। কোনো চক্রই তখন বাজার অস্থিতিশীল করতে পারবে না।