সম্পাদকীয়

চাল আমদানিতে বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নিন

আমাদের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পান না। ফসল তোলার মৌসুমে উৎপাদিত শস্য কম দামে বিক্রি করতে হয়। আবার প্রয়োজনের সময় বেশি দামে কিনতে হয়। এজন্য রাষ্ট্রের উচিত নিত্যপণ্য আমদানিতে সতর্ক থাকা, যেন তা কৃষকসহ নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের কারণ না হয়। বোরো মৌসুম সমাগত। এ সময় চাল আমদানিতে সুবিবেচনার পরিচয় না দিলে কৃষক বোরোর ন্যায্য দাম পাবেন না। একদিকে কৃষককে ‘সব সাধকের বড় সাধক’ হিসেবে স্তুতি গাইব, অন্যদিকে তারা আমাদের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করবেন; এটি অপ্রত্যাশিত।

কৃষকদের বাঁচাতে প্রয়োজন অনুসারে নিত্যপণ্য কিনতে হবে। বুধবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল ও গম কেনা হবে না। বেশি কিনলে কৃষক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর অনেক বেশি চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে, আমাদের যতটুকু প্রয়োজন সেই পরিমাণ। তবুও তার একটি বক্তব্য কৃষকদের আশাবাদী করবে বলেই ধারণা। তিনি বলেছেন, পরবর্তী ফসল কখন আসবে, তা মাথায় রেখেই চাল আমদানি করা হবে।

মাঝেমধ্যে আমাদের কৃষকের উৎপাদন খরচও ওঠে না। স্থানীয়ভাবে যেসব পণ্য উৎপাদন করা যায়, সেগুলোর আমদানি যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। এই শস্য উৎপাদনে প্রণোদনা দিতে হবে। কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান, সে বিষয়ে কর্মকৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। কয়েকটি বড় চালকলের মালিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তারা দাম বাড়িয়ে দিলে অন্য মালিকরাও তা অনুসরণ করেন। তারা কোনোভাবেই যেন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কভিডকালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জীবিকা হারিয়ে এখন অনেকে অন্ন জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় পুষ্টির অভাবে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়তে পারে।

কভিডের প্রাদুর্ভাবে মানুষ যখন আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত, তখন এমন কোনো সিদ্ধান্ত যেন না নেয়া হয়, যাতে সমাজের খেটে খাওয়া ও মেহনতি মানুষের ওপর। কভিডকালে সবারই আয় কমেছে। লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি  মাঝারি ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সীমিত ও নি¤œ-আয়ের মানুষ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহারা। এ অবস্থায় অতিরিক্ত চাল আমদানির কারণে ভোক্তারা উপকৃত হলেও কৃষক বিপাকে পড়বে। অতিরিক্ত চাল আমদানি না করে বাজারে তদারকি জোরদার করতে হবে। কভিড ও রমজানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংঘবদ্ধ চক্রের অপতৎপরতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..