সম্পাদকীয়

চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করুন

 

গ্যাস সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের যুক্তিতে কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের ১৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় বন্ধ রয়েছে আরও চারটি। এগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ৯৬৫ মেগাওয়াট। ফলে দেশে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সাড়ে ৮ হাজারের বেশি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে বেড়ে উঠেছে লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পগুলোয় এ কারণে উৎপাদন যে ব্যাহত হচ্ছে, তা বলা বাহুল্য। সরবরাহ পরিস্থিতি শিগগির স্বাভাবিক করা না হলে তাদেরও গুনতে হবে বড় লোকসান। অর্ডারকৃত পণ্য যথাসময়ে সরবরাহ করতে না পারলে এলসি বাতিলের কথাও ভাবতে পারেন আমাদের পণ্যের কোনো কোনো আমদানিকারক। এতে সংশ্লিষ্ট মালিক শুধু ননÑক্ষতিগ্রস্ত হবে রফতানি খাত। আমরা চাইবো, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করা হোক।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শেয়ার বিজকে আশ্বস্ত করেছেন, চার দিনের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসবে। তাতে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। মনে রাখা জরুরি, কয়েক দিন পরেই শুরু হবে রমজান। এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা স্বভাবতই কিছুটা বাড়ে। প্রত্যাশা অনুযায়ী উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসতে না পারলে কিংবা কোনো কেন্দ্রে নতুনভাবে সংকট দেখা দিলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কাক্সিক্ষত গতিতে চলছে কি না, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটাও তদারকিতে রাখা জরুরি। তাহলে বর্তমান অবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা অনেকটা কমে যাবে।

বস্তুত এপ্রিল ও মে মাসে দেশে অত্যধিক গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গত বছরের এপ্রিলজুড়ে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানেও এর বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে গ্রাহক ও বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা যে বেড়ে উঠেছে, তা বলা বাহুল্য। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়ানো না গেলে এমন সংকট যে সৃষ্টি হবে, সেটা জানাই ছিল সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায়  উৎপাদনক্ষম ২০টি কেন্দ্রকে একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের যুক্তিতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সুবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে হয় না। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ করার আগে সম্ভাব্য বাস্তবতা কি বিবেচনায় রাখা হয়েছিল? নীতিনির্ধারকদের কাছে অন্তত এটুকু দূরদর্শিতা প্রত্যাশিত।

বিদ্যুতের মতো জ্বালানির সঙ্গে অর্থনীতির গতিশীলতা নানাভাবে যুক্ত। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে এর উৎপাদনও বাড়াতে হবে চাহিদা অনুযায়ী। একটি নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিকে উন্নততর অবস্থায় পৌঁছানোর ভিশন নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ অবস্থায় পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ঘটানো না গেলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যে কঠিন হবে, সেটা মনে রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে এর মধ্যে। কাক্সিক্ষত সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো কঠিন হলে আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে। নেপাল, ভুটানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে এ ইস্যুতে। একে ফলপ্রসূ করার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কাম্য। বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে গ্যাসের সরবরাহ সংকটও কিছুটা দায়ী। এর জোগান স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে তাই নিতে হবে যথাযথ পরিকল্পনা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ থাকলেও এর বিতরণ ও এ-সংশ্লিষ্ট সেবার মানোন্নয়ন ঘটানো না গেলে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি সহজে কমবে না। এ ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ আমরা প্রত্যাশা করি।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..