প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

চাহিদা বেড়েছে ওষুধ জ্বালানি ও বিমা খাতের শেয়ারে

রুবাইয়াত রিক্তা: টানা ৯ দিন ছুটি শেষে গতকাল পুঁজিবাজারে ইতিবাচক গতিতে লেনদেন শুরু হয়। অবশ্য ছুটির আগেও বাজারের ইতিবাচক গতি ঈদের পর বাজার ভালো হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। গতকাল লেনদেন না বাড়লেও সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। ডিএসইতে ৫২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৩৫ শতাংশের। বিনিযোগকারীদের উপস্থিতি কম থাকলেও শেষ সময়ে হঠাৎ কেনার চাপ বাড়লে সূচক ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়। চাহিদা বেশি ছিল ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও বিমা খাতের শেয়ারের। যে কারণে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি এ তিন খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। অন্যদিকে লেনদেন ও শেয়ারের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংক খাতে বড় দরপতন হয়।
প্রায় ১৯ শতাংশ লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে ওষুধ ও রসায়ন খাত। প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে এ খাতে লেনদেন হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। এ খাতে ৭৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। জেএমআই সিরিঞ্জের প্রায় ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১১ টাকা ২০ পয়সা। বীকন ফার্মার প্রায় ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ১০ পয়সা। ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এসিআই ফরমুলেশন। এছাড়া এসিআই লিমিটেডের দর প্রায় ৯ শতাংশ, লিবরা ইনফিউশনের দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। এরপরে ১৬ শতাংশ লেনদেন হয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। এ খাতে ৭৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। সাড়ে ২৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে খুলনা পাওয়ার। শেয়ারটির দর এক টাকা ৯০ পয়সা বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের ১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েেেছ এক টাকা ৬০ পয়সা। ডরিন পাওয়ারের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৮০ পয়সা। জীবন বিমার লেনদেন অপরিবর্তিত থাকলেও সাধারণ বিমা খাতে লেনদেন বেড়েছে ১২ শতাংশ। এ খাতে ৮৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসা ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গ্লোবাল ও সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর সাড়ে আট শতাংশ করে বেড়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়ে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স দর বৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে। ১০ শতাংশ লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ৫১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৯০ পয়সা। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে চার শতাংশ কমে লেনদেন হয় মাত্র পাঁচ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ২৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বস্ত্র খাতে ৪৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এছাড়া সিমেন্ট, সিরামিক, খাদ্য খাতগুলোতে শেয়ারের চাহিদা বেশি থাকায় অধিকাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। পাট ও টেলিযোগাযোগ খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দুই টাকা। গতকাল পাঁচ কোম্পানির শেয়ার একপর্যায়ে বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এসব কোম্পানি হচ্ছে, এসিআই, এসিআই ফরমূলেশন, বিডি ওয়েল্ডিং, বিআইএফসি, লিবরা ইনফিউশন ও তাল্লু স্পিনিং। এছাড়া চার মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে।

সর্বশেষ..