প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চা বৈচিত্র্যকরণে সম্প্রসারিত হোক বাজার

চায়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চা পান ক্লান্তি দূর করে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায়। চা বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। সবুজ চা কিডনি রোগে উপকারী ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া চায়ের লিকার দাঁতের ক্ষয়রোধ ও মাঢ়ি শক্ত করে। নিয়মিত চা পানে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। শরীর সুস্থ রাখার জন্য অনেকে সবুজ চা পান করে থাকেন। শহর-বন্দরে আপ্যায়নে চা একটি প্রায় অপরিহার্য উপকরণে পরিণত হয়েছে। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও চা পান এখন নিয়মিত বিষয়। দেশে চাহিদার প্রায় সমান চা উৎপাদন হচ্ছে। আমদানিও হচ্ছে। উন্নত মানের চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি এর কারণ বলে মনে হয়।

গতকাল শেয়ার বিজে ‘চা বৈচিত্র্যকরণে সম্প্রসারিত হতে পারে বাজার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চা উৎপাদন। বছর শেষে মোট উৎপাদন হয়েছে আট কোটি ৮০ লাখ কেজি, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে চা বোর্ডের পক্ষ থেকে এর ব্যবহার ও বৈচিত্র্যকরণ নিয়ে ভাবতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

শুধু পানের জন্য নয়, চায়ের ব্যবহার বহুমুখী করতে হবে। উৎপাদনের শীর্ষে চীন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড, জাপান চায়ের ব্যবহার বাড়িয়েছে। তারা চকোলেট, বিস্কুট, কোমল পানীয়তে চাকে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে এ শিল্পে সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশও এ ধরনের পণ্যে চায়ের ব্যবহার বাড়াতে পারে। দেশে উৎপাদিত চায়ের যদি ১০ শতাংশ অন্যান্য খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে দৈনিক বাজার নাকি হবে হাজার কোটি টাকা। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশে চায়ের চাষ বাড়ছে। আগে শুধু পাহাড়ি এলাকায় চাষ হলেও এখন সমতল ভূমিতেও হচ্ছে। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সমতল ভূমিতে কয়েকটি কোম্পানি চা চাষ করছে। উপযোগী অন্য জেলাগুলোতেও এর চাষ করা যেতে পারে। কোনো কোনো কোম্পানি অর্গানিক চা উৎপাদন করে ব্যবসায় সফলতা পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চা প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো দলবদ্ধভাবে চাষিদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত করছে। চা শ্রমিকরাও সঠিক মজুরি পাচ্ছেন না। শ্রমিকদের কর্মপরিবেশও উন্নত নয়। দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে যথেষ্ট। চা শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের

ব্যবস্থা করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা ভাবতে পারেন, যা এ শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান চা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা মানসম্মত চা বাজারজাত করে গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা এ শিল্পে আরও বেশি বিনিয়োগ করলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক। মানসম্পন্ন চায়ের চাহিদা শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও রয়েছে। বাইরের বাজার ধরার জন্য উন্নয়ন করতে হবে গুণগত মানের। এদিকে সংশ্লিষ্টরা নজর দেবেন আশা রাখি। তাছাড়া চা শিল্পের বিকাশে এর ব্যবহার বৈচিত্র্যকরণে জোর দেবেন সংশ্লিষ্টরা এটাই কাম্য।