সম্পাদকীয়

চা রফতানির নতুন বাজার অনুসন্ধান করুন

ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে উপমহাদেশে পানীয় হিসেবে চা জনপ্রিয় হওয়া শুরু হয়। শুরুতে অভিযাত শ্রেণির পানীয় হলেও পরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও জনপ্রিয়তা বাড়ে। চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সে সময় সিলেটের মালনিছড়ায় প্রথম চা বাগান গড়ে তোলার পর এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক চা বাগান গড়ে উঠেছে দেশে। ব্যাপক উৎপাদনের ফলে গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চা আমাদের অন্যতম রফতানি পণ্য ছিল। সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক, এখন প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চা আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ চা উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদন বলছে। এমন পরিস্থিতিতে চা-শিল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রফতানির ক্ষেত্রে নতুন বাজার অনুসন্ধান ও পণ্যটির আমদানি নিরুৎসাহিত করা উচিত বলে মনে করি।

চা উৎপাদন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘দেশে অবিক্রীত রয়ে গেছে সাড়ে পাঁচ কোটি কেজি চা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে দেশে চায়ের জোগান ছিল ১৩ কোটি ৭৩ লাখ কেজি। এর মধ্যে আট লাখ ৭০ হাজার কেজি চা রফতানি হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল প্রায় সাত কোটি ৯৮ লাখ কেজি। চাহিদা মিটিয়ে এবং রফতানির পরও দেশে পাঁচ কোটি ৬৯ লাখ কেজি চা অবিক্রীত রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর চায়ের চাহিদা তিন দশমিক ২৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। বিপরীতে উৎপাদন বাড়ছে দুই শতাংশ হারে। এ অবস্থায় চলতি বছর চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক নিঃসন্দেহে। তারপরও পাঁচ কোটি কেজির বেশি চা বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যা উদ্বেগ বাড়াবে। দেশে বিপুল পরিমাণ চা উৎপাদন সত্ত্বেও আমদানিও হচ্ছে অনেক। গত বছরও ৬৫ লাখ কেজি চা আমদানি হয়েছে। দেশে উৎপাদক বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ চা আমদানির কারণ খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

গার্মেন্ট পণ্যের বাইরে আমাদের রফতানি আয়ে যে পণ্যগুলো দারুণ সম্ভাবনাময় ছিল তার মধ্যে চা অন্যতম। অথচ এখন রফতানির সঙ্গে আমদানিও সমানে বাড়ছে, যা কাম্য নয়। চা উৎপাদনের এ পরিসংখ্যান সঠিক হলে রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে চায়ের কদর বাড়ছে। এটিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে রফতানি বৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া চা চাষের অনুকূল পরিবেশ এদেশে রয়েছে। তবে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দূরীকরণ জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..