সম্পাদকীয়

চা শ্রমিকদের জীবনমানেও পরিবর্তন আসুক

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয় চা ও চকোলেটের মতো পণ্য ছাড়া কোটি কোটি মানুষের যেন দিন শুরুই হয় না। কিন্তু এসব পণ্যের প্রধান কাঁচামাল তৈরির সঙ্গে যেসব মানুষ যুক্ত, তাদের জীবনাচার কীভাবে চলেÑতা আমাদের বেশিরভাগেরই জানা নেই। বিদায়ী ২০১৯ সালে ১৬৫ বছর পর দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু এ চা উৎপাদনের সঙ্গে যেসব শ্রমিকের শ্রম-ঘাম জড়িত, তাদের জীবনমান নিয়ে কি আমাদের তেমন ধারণা আছে? ভূমিহীন চা শ্রমিকদের নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হতে দেখা যায়। তাদের দুর্বিষহ জীবন নিয়ে নানা উপাখ্যান বর্ণিত হয়। এখন থেকে চা উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতের শ্রমিকদের জীবমানেরও উন্নতি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার বিজে গতকাল ‘৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের রেকর্ড’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে যে পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে, তা ১৬৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর এ উৎপাদনের হাত ধরে দেশে চায়ের যে চাহিদা, তার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। খবরটি নিঃসন্দেহে আনন্দের। কারণ, বাড়তি উৎপাদনের হাত ধরে পণ্যটির আমদানি কিছুটা কমবে। ফলে এ খাতে বাণিজ্য ঘাটতিও কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, এ খাতের শ্রমিকদের জীবনমানেরও উন্নয়ন হওয়া জরুরি। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, দেশে যেসব খাতের শ্রমিক সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন, চা শ্রমিকরা তাদের অন্যতম। এ খাতের নিম্নতম মজুরি সম্ভবত সব খাতের চেয়ে কম। ফলে চা শ্রমিকদের জীবনমান নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রথমত, প্রায় সব চা শ্রমিকই ভূমিহীন। ফলে কৃষিকাজে তাদের তেমন অধিকার থাকার সুযোগ নেই। ঔপনিবেশিক আমলে এসব শ্রমিকের যে জীবনাচার শুরু হয়েছিল, তা এখনও চলমান বলেই জানা যায়। দ্বিতীয়ত, চা শ্রমিকদের সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার তেমন সযোগ পায় না। কারণ, চা বাগানের কাছে তেমন একটা স্কুল নেই বললেই চলে। ফলে বংশপরম্পরায় তারা এ পেশায় থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সারা জীবন বাগানে কাজ করার পরও নেই কোনো ‘অবসরকালীন’ বা বিমা সুবিধা। শ্রমিকদের এমন জীবনাচারের পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করি। চা শ্রমিকদের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে উদ্যোগ  নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..