সারা বাংলা

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর:চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় ঢিমেতালে চলছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

রায়পুর উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৮ সালে উপজেলাবাসীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয়-সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল। বর্তমানে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার হতদরিদ্র মানুষ।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তিনি সপ্তাহে দুদিন কাজ করেন এ হাসপাতালে। আর বাকি চার দিন ডেপুটেশনে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কাজ করেন। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার বাসিন্দারা।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হয়েও তারা সময়মতো চিকিৎসকের দেখা পান না। আর টাকা না দিলে দেখা মেলে না সেবিকাদেরও। এছাড়া হাসপাতালটিতে এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফ মেশিন অকেজো ও টেকনিশিয়ানের অভাবে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এখানে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এদিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের কাছে এলেই তাদের প্রাইভেটে দেখানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন তারা।

হাসপাতালে কর্তব্যরত সেবিকা মুক্তা বেগম জানান, প্রয়োজনীয়-সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে ওয়ার্ডে রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তারপরও ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে চেষ্টা করছেন তারা।

হাসপাতালে প্রসব বেদনা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার গাইয়ার চর গ্রামের বিলকিস আক্তারের স্বামী জানান, গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। নিরাপদ মাতৃত্ব ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে হাসপাতালটিতে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রদানের দাবি জানান তিনি।

রায়পুর উপজেলার হাজীমারা গ্রামের ভ্যানচালক কামরুল হোসেন জানান, ভ্যান চালাতে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেছেন তিনি। তাই সেবা নিতে এ হাসপাতালে এসেছেন। অর্থোপেডিক চিকিৎসক না থাকায় নিরুপায় হয়ে তিনি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

এদিকে ফাতেমাতুজ জোহরা নামের এক কলেজছাত্রী চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে সেবা নিতে এ হাসপাতালের আউটডোর থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় তাকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। এতে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক বাহারুল আলম জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের রোগীদের মানসম্মত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। চিকিৎসক সংকট নিরসন হলে রোগীরা মানসম্মত সেবা পাবেন।

সর্বশেষ..