Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 6:47 pm

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশ: May 2, 2021 সময়- 11:50 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। এমন কোনো খাত নেই, যা কভিডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দুর্যোগপূর্ণ এ সময়ে স্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য আর চিকিৎসা দুটি পৃথক বিষয় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘চিকিৎসা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর থেকে বেশি জরুরি মানুষের সুস্থতা। জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যেতে পারে, যা সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়েই সমন্বয় করবে এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এছাড়া সংস্থাটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিষমুক্ত খাদ্যের জোগান, নগরকৃষি, হাঁটা ও সাইকেলবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার পরিবেশ তৈরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ/পার্ক ও উম্মুক্ত স্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কভিড-১৯-এর মতো অতিমারি বা মহামারি নিয়ন্ত্রণেও তারা কাজ করতে পারে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘কভিড-১৯ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে তরুণদের ভাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে গতকাল বক্তারা এ অভিমত দেন।

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা নাঈমা আকতারের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সংলাপে অতিথি আলোচক ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সহকারী আরবান প্ল্যানার সাদিয়া চৌধুরী, ভূমিজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা স্থপতি মাসুদুল ইসলাম এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিং বাংলাদেশের পলিসি অফিসার আ ন ম মাছুম বিল্লাহ ভুঞা।

সাদিয়া চৌধুরী বলেন, নগর পরিকল্পনার সঙ্গে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক অনস্বীকার্য। নগর পরিকল্পনায় হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিত করা, হাঁটা দূরত্বে সব নাগরিক সেবা প্রাপ্তি, শহরে পর্যাপ্ত উম্মুক্ত স্থান নিশ্চিতকরণ প্রভৃতি বিষয়ে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। হেঁটে যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে নগরবাসীর কায়িক পরিশ্রম ও সামাজিকীকরণের চাহিদাপূরণ সম্ভব। সুন্দর ও নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে আনবে, ফলে দূষণ কমে যাবে বহুলাংশে। সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থপতি মাসুদুল ইসলাম বলেন, গণপরিসরের চাহিদা মেটানোর জন্য মাঠ-পার্ক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। লক্ষ্য রাখতে হবে এগুলো যেন সামাজিক ও অবকাঠামোগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। রাস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিসর। এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জন্য সামাজিকীকরণের সুযোগ করে দেয়া যায়। একই সঙ্গে ফুটপাতগুলো নগরকৃষির জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের সড়ক বিভাজিকাগুলোয় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য গাছের পরিবর্তে আমরা ফলদ গাছ রোপণ করতে পারি। এর মাধ্যমে মানুষের ফলের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে। সুযোগ পেলে তরুণরাও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

আ ন ম মাছুম বিল্লাহ ভূঞা বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রের ওপর সব দায়িত্ব না চাপিয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জিনিসগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।