সম্পাদকীয়

চিকিৎসা ফি নির্ধারণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হোক

মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে চিকিৎসা একটি। তাই চিকিৎসা কখনও ব্যবসার উপলক্ষ হওয়া উচিত নয়। কিন্তু দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রায়ই চিকিৎসা নিয়ে নানা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে সেবা না দিয়েই টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায় অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। সেসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায় বৈকি। তবে আশার কথা হলো, বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সেবার মূল্য নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ন্যায্য মূল্যে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবেন বলেই প্রত্যাশা।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সেবার মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালগুলোর তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে আট থেকে ১০ গুণ বেশি ফি আদায় করা হয়। বিশেষ করে আলট্রাসনোগ্রাফি, রক্তের সিবিসি টেস্টসহ প্রায় সব ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফি আদায়ে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিল পরিশোধের সময় বিড়ম্বনায় পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। প্রায়ই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নৈরাজ্যের চিত্র গণমাধ্যমে আসে। কিন্তু এ থেকে প্রতিকার মেলে না। কোন সেবার ক্ষেত্রে কত কাটা ফি আদায় করা যাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় যে যার ইচ্ছামতো ফি আদায় করে চলেছেন। এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সারা দেশেই বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে দেখা যাবে, একই ধরনের সেবার মূল্য একেক হাসপাতালে একেক রকম। অনেক নামিদামি হাসপাতালেও কোনো সেবা নিতে গেলে নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে প্রযোজ্য ফি’র অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। একটি সেবার সঙ্গে আরও অনেক ধরনের সার্ভিস চার্জ জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ অসংখ্য। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে, মৃত ব্যক্তিকে আইসিইউতে রেখে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রেখে বাড়তি টাকা আদায় করা হয়েছে। আবার যে রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন নেই, তাকেও আইসিইউতে রাখা হয়। এসব বিষয় কাম্য হতে পারে না। বিভিন্ন সেবার মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি এসব নৈরাজ্য রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।

এসবের পাশাপাশি যত্রতত্র মুদি দোকানের মতো যাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে না ওঠে সে বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ হাসপাতাল সেবার সঙ্গে নানা ধরনের পরিচ্ছন্নতার বিষয় জড়িত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো ঠিকমতো পরিপালন করে না বলে অভিযোগ আছে। এসব বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। সর্বোপরি সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেবামূল্য নির্ধারণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি। কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে যাতে উদ্যোগটি থেমে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..