চীনকে ডব্লিউটিও’র আদালতে নেয়ার হুমকি তাইওয়ানের

ফল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: তাইওয়ানে উৎপাদিত ফলে ‘ক্ষতিকর’ পদার্থ থাকার অভিযোগে তাইওয়ান থেকে ফল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে চীন। সুগার আপেল ও ওয়াক্স আপেলের জন্য বিখ্যাত তাইওয়ান। এ দুই ধরনের ফল আমদানি করে থাকে চীন। কিন্তু গতকাল রোববার সকালে হঠাৎ করে তাইওয়ানের ফল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেইজিং। এরপর পরই তাইওয়ানের পক্ষ থেকে চীনকে হুমকি দেয়া হয় যে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতি না মানা হলে চীনকে ডব্লিউটিও’র আদালতে নেয়া হবে। খবর: রয়টার্স।

চীন এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাইওয়ান থেকে আনারস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গতকাল দ্বিতীয় দফায় দুটি ফল আমদানিতে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাইওয়ান বলছে, চীন ‘অবৈজ্ঞানিক’ অহেতুক অভিযোগ তুলে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ফল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যার ফলে তাইওয়ানের ফল বাণিজ্য বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, বাণিজ্য ও সামরিক শক্তিক্তে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের অনুগামী হওয়ায় বর্তমানে বেইজিং এবং তাইপের সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে তলানিতে। যদিও গণতান্ত্রিকভাবে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করছে চীন। কিন্তু তাইওয়ান তা অস্বীকার করায় সামরিকভাবে কোণঠাসায় রাখতে সম্প্রতি তাইওয়ানের আকাশসীমায় সামরিক বিমানের মহড়া অব্যাহত রেখেছে চীন। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের আধিপত্য বজায় রাখতে সামরিক মহড়া দিচ্ছে।

গতকাল চীনের শুল্ক প্রশাসন এক বিবৃতিতে বলছে, তাইওয়ানের আমদানিকৃত সুগার আপেলে ‘প্লানোক্কাস মাইনর’ নামে এক ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ পাওয়া গেছে, যা মিষ্টি বা কাস্টড আপেল নামেও পরিচিত। তাইওয়ান থেকে ওয়াক্স বা মোমের আপেলও আমদানি করে চীন। ফলে চীনের গুয়াংডম শুল্ক শাখা আগামীকাল (আজ) সোমবার থেকে এ দুই ধরনের আপেল ছাড়করণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এ বিষয়ে তাইওয়ানের কৃষিমন্ত্রী চেন চি-চুয়াং বলেন, চীন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না দিয়ে একতরফা আচরণ করছে। তিনি আসন্ন ‘মধ্য-শরতের ফল উৎসব’ ব্যাপক ক্ষতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। উল্লেখ্য, মধ্য-শরতের ফল উৎসবটি চীন ও তাইওয়ান যৌথভাবে আয়োজন করে আসছে।

গতকাল তাইওয়ানের কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না’। তিনি আরও  বলেন, তাইওয়ান চীনকে বলছে যে, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বেইজিং তাদের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর অধীনে সমস্যা সমাধানের জন্য তাইপের অনুরোধে সাড়া না দিলে তারা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে যাবে। 

আর তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ এক টুইটবার্তায় বলেছেন, সামরিক হুমকির পর, চীন এখন ‘অস্ত্রশস্ত্র বাণিজ্য’ করছে। তিনি এ প্রদক্ষেপটিকে গত সপ্তাতে মুক্তবাণিজ্য গ্রুপ ‘সিপিটিপিপি’তে যোগ দেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করে কীভাবে চীন মুক্তবাণিজ্য যোগ দেয়?

উল্লেখ্য, সুগার আপেল ও ওয়াক্স আপেল তাইওয়ানের বিশেষ ফল। যদিও এর বেশিরভাই দেশীয়ভাবে খাওয়া হয়। দ্বীপ দেশটি আমের জন্যও বিখ্যাত। চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় দফায় আমদানি নিষিদ্ধ করা হলো। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও চীন তাইওয়ান থেকে আনারস আমদানি নিষিদ্ধ করে। তখন বলা হয়েছিল, আনারসে ক্ষতিকর পোকা পাওয়া গেছে। যদিও তাইওয়ান বলছিল, আনারসে কোনো ত্রুটি ছিল না। বরং বেইজিং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

সর্বশেষ..