দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ভারত প্রতিরক্ষা চুক্তি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সীমান্ত নিয়ে দিল্লি-বেইজিং উত্তেজনার মধ্যে স্পর্শকাতর স্যাটেলাইট তথ্য ভাগাভাগি করতে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং অন্যান্য পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এ ধরনের স্যাটেলাইট তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকের পর এ চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধন শক্তিশালী করার অর্থ হলো এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা। খবর: বিবিসি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এস্পার বৈঠক করেছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিল্লিতে এসব বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট অন জিওপ্যাটিয়াল কোঅপারেশন (বিইসিএ) নামের এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র তাদের অল্প কয়েকটি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সঙ্গে স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির ফলে সামরিক পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর জিওপ্যাটিয়াল (সুনির্দিষ্ট স্থান-সংক্রান্ত) ও অ্যারোনটিক্যাল (বিমানচালনা-সংক্রান্ত) তথ্য পাবে ভারত। এছাড়া দেশ দুটি পারমাণবিক শক্তি, মৃত্তিকা বিজ্ঞান এবং বিকল্প ওষুধ-সংক্রান্ত আরও কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এসব চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বিইসিএ।

মাইক পম্পেও বলেছেন, দুই দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য চীনা হুমকির বিরুদ্ধে দিল্লি-ওয়াশিংটন এক হয়ে লড়াই করবে। ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি। পম্পেও আরও বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে আরও অনেক কাজ করার আছে। আমাদের আজ আলোচনা করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে: উহান থেকে উদ্ভূত ভাইরাস মোকাবিলা কিংবা পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সুরক্ষা এবং স্বাধীনতার জন্য চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকির মোকাবিলা।’

এদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, বিগত দুই দশক ধরে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বস্তুগত, মাত্রাগত এবং তাৎপর্যগত দিক দিয়ে ক্রমাগত উন্নত হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দেশ দুটি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারত এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করল, যখন লাদাখ সীমান্তে দেশটির সেনাবাহিনী চীনা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। গত জুনে দুই পক্ষের সেনা সদস্যদের সংঘাতে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়। তারপর থেকে উত্তেজনা নিরসনে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও কার্যত সীমান্ত উত্তেজনার নিরসন হয়নি।

চীনের মোকাবিলায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, এখনও অজানা। ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমেই ভারতকে কাছে টেনেছে এবং সেই পারস্পরিক স্বার্থের বেশিটাই চীনকেন্দ্রিক। সেই কারণে মালাবার নৌমহড়ায় অস্ট্রেলিয়াও যোগ দিচ্ছে। ভূরাজনীতির এ বিন্যাস পূর্ব লাদাখে ভারতের অনড় অবস্থানের অন্যতম কারণ।

এছাড়া বিগত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কও তিক্ত হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। এমনকি হংকংয়ের নতুন নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ নিয়ে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়াজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ সফরের লক্ষ্য। ভারত সফর শেষে পম্পেও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ যাবেন। ভারত মহাসাগরীয় দেশ দুটিতে চীন অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে; যা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পম্পেওর এশিয়া সফর শেষ হবে ইন্দোনেশিয়া গমনের মধ্য দিয়ে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..