বিশ্ব বাণিজ্য

চীনা যন্ত্রাংশের অভাবে এবার গাড়ি উৎপাদন বন্ধ নিশানের

ST PETERSBURG, RUSSIA - AUGUST 16, 2019: A car at the Nissan plant in Pargolovo. Peter Kovalev/TASS Ðîññèÿ. Ñàíêò-Ïåòåðáóðã. Àâòîìîáèëü â îäíîì èç öåõîâ çàâîäà Nissan â Ïàðãîëîâî. Ïåòð Êîâàëåâ/ÒÀÑÑ

শেয়ার বিজ ডেস্ক:করোনাভাইরাস সংকটে এবার গাড়ি উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে জাপানের গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিশানের। চীনা যন্ত্রাংশের অভাবে তারা জাপানের একটি কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ওই কারখানায় নিশানের সেরেনা ও এক্স-ট্রেইল মডেলের গাড়ি তৈরি হয়। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়িনির্মাতা হুন্দাই নিজ দেশে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। খবর: রয়টার্স।

এক বিবৃতিতে নিশান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ-স্বল্পতার কারণে জাপানের কিয়–শু এলাকার কারখানাটি আগামী ১৪ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। তবে দেশটির অন্যান্য কারখানায় যথারীতি উৎপাদন চলবে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গাড়ি নির্মাণ শিল্প। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ ব্র্যান্ডই মোটর যন্ত্রাংশের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের উৎস ও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হুবেই প্রদেশের উহান শহর হচ্ছে দেশটির অন্যতম যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী এলাকা। ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকেই অবরুদ্ধ রয়েছে এসব এলাকা। সেখানে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ, কলকারখানাও বন্ধ। ফলে যন্ত্রাংশের অভাবে চরম সংকটে পড়েছে গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। মাত্র একটি যন্ত্রাংশের অভাবেই বন্ধ হতে পারে পুরো গাড়ির নির্মাণকাজ।

এর আগে একই কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানা বন্ধ করেছিল হুন্দাই। গত সপ্তাহে ফিয়াট জানিয়েছে, তারাও চীনা যন্ত্রাংশের অভাবে ইউরোপের একটি কারখানা বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া স্পেনের বার্সেলোনায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি), ২০২০। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে ইতোমধ্যে এতে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক এলজি ইলেকট্রনিকস, জাপানের সনি করপোরেশন ও  সুইডেনভিত্তিক এরিকসন।

ইভেন্টের আয়োজক জিএসএমএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘তারা নিশ্চিত করছে যে, অনেক বড় প্রতিষ্ঠান না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং অন্যরা এখনও পরবর্তী ধাপ বিবেচনা করছে, আমাদের এখনও দুই হাজার ৮০০ বেশি অংশগ্রহণকারী রয়েছে।’ আয়োজকরা আরও জানিয়েছে, ‘প্রদর্শক ও দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা আমাদের মূল বিবেচনা।’

চীনা নববর্ষের বর্ধিত ছুটি শেষে গত সোমবার থেকে চীনে কিছু কলকারখানা খুললেও এখনও বন্ধ বেশিরভাগ। এ সংকট কবে কাটবে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। কারণ দেশটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..