প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চীনের কভিড বিধি শিথিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চীনের কভিড বিধিনিষেধ শিথিলের পড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে। গত প্রায় ছয় মাস ধরে বাজারে যে মন্দাভাব চলছিল, তা কেটে যাওয়ার আভাস মিলছে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার চীনা কর্তৃপক্ষ কভিড বিধি শিথিতের ঘোষণা দেয়। এরপর গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। খবর: রয়টার্স।

গতকাল ব্যারেল প্রতি (১৫৯ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২০ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ০৮ ডলারে, যা শতকরা হিসেবে দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের অপর বেঞ্চমার্ক ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৬ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৩৪ ডলার। শতকরা হিসেবে দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদেশ চীন। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবকও। করোনা নির্মূলে চীনের বিতর্কিত ‘জিরো কভিড’ নীতি নেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে পতন শুরু হয়েছিল। জিরো কভিড নীতি ও তার জেরে নিয়মিত লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইন জারির কারণে চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা আসে, ফলে কমে গিয়েছিল জ্বালানি তেলের চাহিদাও।
গত সপ্তাহে ‘জিরো কভিড’ নীতি বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর করোনা বিধিতে খানিকটা শিথিলতা আনে চীনের সরকার। তারপরই চাঙাভাব শুরু হলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে।

গতকাল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শীর্ষ নির্বাহী ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এক বার্তায় এ সম্পর্কে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা চীনের করোনানীতির ওপর খানিকটা হলেও নির্ভরশীল।’

তবে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে অপরিশোধিত তেলের বাজারে চাঙাভাবের আর একটি কারণ ডলারের মান হ্রাস। গত আগস্ট থেকে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে লাগামহীনভাবে বাড়ছিল ডলারের দাম। ফলে, ব্যাপকমাত্রার এক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার দ্বারপ্রান্তে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম। গতকাল এক প্রতিবেদনে ফেড বলছে, অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় বর্তমানে ডলারের যে মূল্য তা গত ১৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনি¤œ।

অন্যদিকে তেলের উৎপাদন দৈনিক দুই মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমানোর আগের সিদ্ধানে অটল থাকতে আগামীকাল রোববার বৈঠকে বসছে ওপেক প্লাস-ভুক্ত দেশগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, ওপেকের বৈঠকে তেল উৎপাদন হ্রাস বজায় থাকবে। ফলে তেলের দাম আরও বাড়বে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অস্থিরতা বিরাজ করছে তেলের বাজারেও। সস্তায় তেল বিক্রি করছে রাশিয়া। সে কারণে বেধে দেয়া দরে এবার তেল কিনবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো। ইইউ দেশগুলোর সরকার রাশিয়ার সমুদ্রজাত জ্বালানি তেল কেনার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বৃহস্পতিবার। ব্যারেলপ্রতি এ তেলের দাম ৬০ ডলার নির্ধারণ করা হয়। আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর আগেই পশ্চিমা দেশগুলো রুশ তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাল।