বিশ্ব সংবাদ

চীনের কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের কোম্পানিগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঠিক কয়েক দিন আগে বুধবার চীনের সামরিক সংস্থাগুলোর প্রতি অভিযোগ তুলে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের ওপর গত নভেম্বরের নিষেধাজ্ঞাকে শক্তিশালী করার একটি আদেশে সই করেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে চীনের প্রবেশাধিকার রোধ করা হয়েছে। খবর: রয়টার্স, সিএনএন।

ট্রাম্পের সই করা ওই নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা চীনের সিকিউরিটিজ কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ করতে পারবে না। চীন তাদের সামরিক শক্তি আধুনিকায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা এত দিন চীনের ওইসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে আসছে।

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, আজকের (বুধবার) নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী চীনা কোম্পানিতে বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

চীনের ওপর ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ তার চার বছরের শাসনামলের চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে খারাপ অবস্থাকে নির্দেশ করে, যা ১৯৯৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক চীনের কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার মাত্রা আরও ছাড়িয়ে যাবে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে (ডিওডি) চীনের প্রধান চিপমেকার কোম্পানি এসএমআইসি এবং তেল জায়ান্ট সিএনওওসি-সহ ৩৫ কোম্পানিকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও রয়টার্স ও অন্যান্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কালো তালিকার বাইরে রয়েছে চীনের টেক জায়ান্ট আলিবাবা, বাইডু ও টেনসেন্টের মতো বড় বড় কোম্পানি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের জোর করে কাজ করানোর মাধ্যমে যেসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো আমদানি নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কাস্টমস ও সীমান্ত রক্ষা বিভাগ থেকে টমেটো ও তুলাজাতীয় পণ্যের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বন্দিদের মাধ্যমে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের ঋণের ফাঁদে আটকে ফেলা হচ্ছে, চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর সম্প্রদায়ের সঙ্গে চীন সরকারের আচরণেরও কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ১০ লাখ উইঘুর মুসলমানকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সেখানে তুলা ও টমেটো উৎপাদনে উইঘুরদের দিয়ে জোর করে কাজ করানোর প্রমাণ রয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তুলা উৎপাদিত হয় জিনজিয়াংয়ে। সেগুলো জোরজবস্তিমূলক শ্রমে উৎপাদিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট সচেতন নয় বলেও উদ্বেগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। অবশ্য চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা পরীক্ষায় যথেষ্ট প্রচেষ্টা দেখাতে ব্যর্থ হলে জরিমানার বিধান করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। তবে দ্য সান জানিয়েছে, ডমিনিক রাবের ওই প্রস্তাবে চীনের কথিত উইঘুরদের ‘কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ সংশ্লিষ্ট চীনের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থাকছে না।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে যেখানে উদ্বেগ রয়েছে, আমরা সেগুলো উত্থাপন করি এবং চীনকে এর জন্য দায়ী করি।

চীনের অন্যতম সমালোচক ও কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নেতা ডানকান স্মিথ ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তার মতে, চীনের জন্য এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, জিনজিয়াংয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে বন্দিশিবির তৈরি করে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। তবে চীন সরকারের দাবি, ওই অঞ্চলে দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..