বিশ্ব প্রযুক্তি

চীনের ক্লাউড ব্যবসা বিক্রি করছে আমাজন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন চীনের ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসা বিক্রি করে দিচ্ছে। চীনা অংশীদার বেইজিং সিনেট টেকনোলজি এ ব্যবসা কিনতে আগ্রহী। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে গুনতে হবে ৩০ কোটি ১০ লাখ ডলার। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

২০১৬ সালের আগস্টে চীনে আমাজনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ব্যবসা শুরু করে সিনেট। সোমবার এক নথিতে চীনা প্রতিষ্ঠানটি বলে, এ ক্রয়ে আমাজনের ক্লাউড ইউনিটকে ‘স্থানীয়’ আইন ও নীতিমালা মেনে চলতে এবং সেবার মান ও নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করবে।’ তবে আমাজন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

চীনা নীতিনির্ধারকরা বিদেশি ডেটা আর ক্লাউড সেবাগুলোর জন্য নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করছে। এর মধ্যে নতুন নজরদারি পদক্ষেপ এবং অন্য দেশে ডেটা পাঠানোতে যাচাই প্রক্রিয়াও রয়েছে। ২০১৩ সালে আমাজনের ওয়েব সেবা ব্যবসা চীনের প্রাদেশিক সরকারগুলোর সঙ্গে চুক্তি সই করে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি শাওমি ও কিংসফটসহ চীনের বড় কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কাজ করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনে ক্লাউড সেবা খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের পর থেকে চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এক ডজনেরও বেশি বিদেশি ডেটা সেন্টার চালু করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ভালো ব্যবসা করছে আমাজন। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মার্কিন টেক জায়ান্ট আমাজনের আয় বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় এটি বেশি। চতুর্থ প্রান্তিকেও ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তৃতীয় প্রান্তিকে আমাজনের আয় হয়েছে চার হাজার ৩৭০ কোটি ডলার, যেখানে রয়টার্সের বিশ্লেষণে প্রত্যাশিত অঙ্কটা ছিল চার হাজার ২১৪ কোটি ডলার। একই বিশ্লেষণে প্রতি শেয়ারের তিন সেন্ট আয়ের প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে আমাজনের ক্ষেত্রে অঙ্কটা হয়েছে ৫২ সেন্ট। আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের আয় ৪৫১ কোটি ডলার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এ বিভাগ থেকে ৪৫৮ কোটি ডলার আয় করেছে।

ছুটির মৌসুম সামনে থাকায় তৃতীয় প্রান্তিকে আমাজনের বিনিয়োগ বেশি হয়ে থাকে। এ কারণে এ প্রান্তিকে অপেক্ষাকৃত কম লাভের ধারণা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু উত্তর কোরিয়ায় শক্তিশালী আয় এবং আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস থেকে নতুন এলাকাগুলোতে ব্যয় ভারসাম্যে চলে এসেছে।

২০১৬ সালের একই সময়ের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে আমাজনের আয় বেড়েছে ৩৪ শতাংশ, যেখানে অবদান রয়েছে হোল ফুডস বিভাগেরও। চলতি বছর আগস্টে আমাজনের কিনে নেওয়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে আয় হয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। উত্তর আমেরিকায় প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে দুই ৫৪০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক আয় ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৭০ কোটি ডলারে।

চতুর্থ প্রান্তিকে পাঁচ হাজার ৬০০ থেকে ছয় হাজার ৫০ কোটি ডলার আয়ের নির্দেশনা দিয়েছে আমাজন। এক্ষেত্রে ওয়ালস্ট্রিট বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে অঙ্কটা পাঁচ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার বলে জানা গেছে।

 

সর্বশেষ..