বিশ্ব সংবাদ

চীনের নতুন ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে চীনের নতুন ‘করোনা ভাইরাস’। বাড়ছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪০ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। মৃতদের সংখ্যা পরবর্তীকালে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মানুষজনকে উহান ভ্রমণে যাওয়া এবং উহান থেকে বাইরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর: বিবিসি।

চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের উপমন্ত্রী এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘উহানে যাবেন না। আর যারা উহানে আছেন তাদেরকে নগরীটির বাইরে কোথাও না যাওয়ার অনুরোধ করছি।’ ভাইরাস সংক্রমণে রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং রোগ প্রতিকারের ক্ষেত্রে চীন এখন ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিশ্বজুড়ে ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিদেশি পর্যটকদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়ার একাধিক ফরেন ট্যুর অপারেটর এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন এ ভাইরাসটি মানুষ ও প্রাণীর ফুসফুস সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লু’র মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে এটি। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো: শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া প্রভৃতি। এতে শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনও কোনো ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এটি ঠিক কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তা জানতে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের ধারণা, কোনো প্রাণীর মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। উহানের স্থানীয় বাজারে যারা আসা-যাওয়া করেছেন, তাদের মধ্যেই প্রথম সংক্রমিত হয়েছে এটি।

এরই মধ্যে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে চীনের অন্য অঞ্চলসহ থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের দুটি প্রধান বিমানবন্দরেও। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে চীন থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে চীনে সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য, দুবাই, ভারত হয়ে কানেকটিং ফ্লাইটে চীন থেকে অনেক যাত্রী আসেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..