বিশ্ব সংবাদ

চীনের প্রযুক্তি মোকাবিলায় সিনেটে বিল পাস

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যে বিশেষত চীনের প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতেও এগিয়ে রয়েছে চীন। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। এ লক্ষ্যে বিস্তৃত কর্মসূচি-সংক্রান্ত একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে বিলটি ৬৮-৩২ ভোটে পাস হয়। খবর: গার্ডিয়ান, রয়টার্স।

সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অনেক বিষয়ে বিরোধ থাকলেও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ‘হার্ড লাইন’ নেয়ার পক্ষে উভয় দলের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতাই একাট্টা ছিলেন।

বিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও গবেষণা জোরদার করার জন্য প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম উৎপাদন ও গবেষণায় খরচ করতে অতিরিক্ত আরও ৫৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিতেও এতে বলা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের প্রযুক্তি খাতকে টেক্কা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়নে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ অনুমোদন করে কংগ্রেস। আর প্রযুক্তি গবেষণায় মোট ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিল পাস হয়, যা আগামী পাঁচ বছরে ব্যয় করা হবে।

হোয়াইট হাউসে পাঠানোর আগে বিলটিকে এখন কংগ্রেসের নি¤œকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে পাস হতে হবে। দুই কক্ষে অনুমোদিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি কবে উঠবে এবং সেখানকার সদস্যরা বিলে কোনো পরিবর্তন আনতে চাইবেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিলে চীনের ‘প্রযুক্তি হুমকি’ মোকাবিলায় যেসব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে আছে সরকারি ডিভাইসগুলোয় টিকটক অ্যাপ ডাউনলোড নিষিদ্ধ করা, চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া কোম্পানিগুলোর বানানো ড্রোন না কেনা। বিলে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক সফরে গেলে তাইওয়ানের কূটনীতিক ও সেনাসদস্যদের তাদের পতাকা প্রদর্শন ও ইউনিফর্ম পরারও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

চীনবিরোধী এ বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা চাক শুমার চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ না দিলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেন, যদি আমরা কিছুই না করি, তাহলে প্রভাবশালী পরাশক্তি হিসেবে আমাদের দিন শেষ হয়ে আসতে পারে। 

বিলটির প্রশংসা করেছেন খোদ বাইডেনও। তিনি বলেন, আমরা একবিংশ শতাব্দী জয়ের প্রতিযোগিতায় রয়েছি, (দৌড়) শুরুর বন্দুকের গুলি বেরিয়ে গেছে, পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে পারি না আমরা।

নতুন এ বিলটি আইনে পরিণত হলে শিগগিরই সাত থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর তৈরির কারখানা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রেমন্ডো।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানিও বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল বলেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও এর চন্দ্রাভিযানে বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি বলেন, চীন নিশ্চিত করেছে, তারা মঙ্গলে যাচ্ছে। মঙ্গলে যাওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ আমরাও ফের চাঁদে যাওয়া শুরু করব।

এদিকে এর আগে নতুন একটি ‘স্ট্রাইক ফোর্স’ গঠনের মাধ্যমে চীনের ‘অন্যায়’ বাণিজ্য কৌশলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার সকালে বাইডেন প্রশাসন এ ঘোষণা দেয়। চীন ব্যবসা বিস্তারে যেসব ‘অন্যায়’ কাজ করছে, তার প্রতিকার করাই এর উদ্দেশ্য। এর আগে গত সপ্তাহে চীনের ৫৯টি প্রযুক্তি কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জো বাইডেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..