বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

চীনে জিপিএইচ ইস্পাতের বিলেট রপ্তানি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: সাধারণত চীন থেকে আমরা পণ্য আমদানি করি। এখন জিপিএইচ ইস্পাত সেখানে বিলেট রপ্তানি করছে, যা আমাদের জন্য নতুন মাইলফলক। এক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে। আর এ ধরনের রপ্তানি অব্যাহত থাকুক। এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় ও গৌরবের। গতকাল বিকালে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিলেট রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কথা বলেন।

গতকাল বিকালে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিলেট রপ্তানির শুভসূচনা অনুষ্ঠান যৌথভাবে উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তাছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ট্রেডবডির নেতারা এতে অংশ নেন।

বিলেট রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীনের মতো বিশাল দেশে জিপিএইচ ইস্পাত বিলেট রপ্তানি করছে। এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। অথচ তাদের কাছ থেকে বিশ্বের সবাই আমদানি করে। আজ সেই দেশেই আমরা রপ্তানি করতে যাচ্ছি, যা আমাদের রপ্তানি খাতে নতুন সংযোজন। ইস্পাত খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে আমাদের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে। এ খাতে শিল্প ও বাণিজ্যসহ বিদেশে দূতাবাসগুলো সহযোগিতা করবে।

স্বাগত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২৫ হাজার মেট্রিক বিলেট রপ্তানি বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি চালান, যা বাংলাদেশকে অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এ রপ্তানি দেশের সম্মানকে আরও মর্যাদাবান করেছে। যদিও আমাদের দেশে ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না। আমাদের এ খাতে অব্যবহƒত ইস্পাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ আছে। এ জন্য আমাদের সরকারকে পোশাক শিল্পের মতো সহযোগিতা করতে হবে। সরকার নীতিগত সহযোগিতা করলে এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আমাদের কোম্পানি ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিলেট রপ্তানি করতে পারবে। এর জন্য অবশ্যই সরকারের নীতি সহায়তা প্রয়োজন। এতে অন্যান্য ইস্পাত প্রতিষ্ঠানও রপ্তানিতে আগ্রহী হবে।

জিপিএইচ ইস্পাত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মানসম্মত ইস্পাত উৎপাদন প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে কাজ শুরু করেছে জিপিএইচ ইস্পাত। এ সম্প্রাসারণ প্রকল্পের জন্য প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করে। এর মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নেওয়া হয়। বাকি অর্থ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে এবং কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে রাইট শেয়ারের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২৬১ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে। এ রাইট শেয়ারের মাধ্যমে উত্তোলিত টাকার মধ্যে ২৬১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এরই মধ্যে খরচ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, জিপিএইচ ইস্পাতের কোয়ান্টাম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নতুন প্লান্টে উৎপাদিত ২৫ হাজার মেট্রিক টন এমএস বিলেট চীনে রপ্তানি হতে যাচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য এক কোটি এক লাখ ৭৫ হাজার ডলার। এটি বাংলাদেশ থেকে সর্ববৃহৎ রপ্তানি চালান। গত তিন বছরের প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বসিয়েছেন পৃথিবীর সর্বশেষ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ উৎপাদন যন্ত্র। কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তির এ কারখানা স্থাপনে সব ধরনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সম্প্রসারিত প্রকল্পের দেশি-বিদেশি ২২ জন বিশেষজ্ঞ দ্বারা পুরোদমে চলছে পরীক্ষামূলক উৎপাদন কাজ। আর সব ঠিক থাকলে দ্রুত সময়ে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি রূপান্তরিত হবে দেশের প্রথম ও একমাত্র কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেসভিক্তিক কোম্পানি এবং বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী কারখানা। আর নতুন প্লান্টে বছরের এমএস বিলেটের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা আট লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এবং এমএস রড ও মিডিয়াম সেকশান প্রডাক্টের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছয় লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..