বিশ্ব সংবাদ

চীনে বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন পাস

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দিয়েছে চীনের পার্লামেন্ট। আইনটি পাস হওয়ায় চীন তার আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর নতুন ক্ষমতা পেল। এ আইনকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থিরা। এদিকে হংকং প্রশ্নে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেপরোয়া আচরণের’ জবাবে  মার্কিন কর্মকর্তাদের ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করছে বেইজিং। খবর: বিবিসি।

গতকাল মঙ্গলবার বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটির (এনপিসিএসসি) বৈঠক শুরু হয়। ১৫ মিনিটের মধ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ জন সদস্যের সম্মতিতে আইনটি পাস হয়। ব্রিটিশ শাসন থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকী ১ জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে চীন ঘোষণা দেয়, তারা হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন জারি করতে যাচ্ছে। চীনের এ ঘোষণায় প্রতিবাদে ফুসে ওঠেন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা। তারা এ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেন।

চীনের দাবি, হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, বৈধ সরকার পতনে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখতেই নতুন এ নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। আইনটি হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি নয় বলেও দাবি চীনের।

তবে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের দাবি, এ আইন অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরবে। হংকংবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছেন, এ আইন তাকে খর্ব করবে।

পশ্চিমারাও বলছে, হংকং যে বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে, নতুন নিরাপত্তা আইনের কারণে তা আর পাবে না। ফলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে হংকংয়ে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে চীন শাসনে অন্তর্ভুক্ত হয় হংকং। তখন থেকে হংকং ‘এক দেশ, দুই নীতি’ পদ্ধতির আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। হংকং চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও নিজস্ব বিচার বিভাগ, আইনসভা ও নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে।

চীনের এ আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন যে, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন বানচাল করার সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য চীনের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার ওপর ভিসা-সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।

এবার চীন বলেছে, হংকং ইস্যুতে মার্কিন নাগরিকদের বাজে  রেকর্ডের কারণে তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে। গত সামবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাউ লিজিয়ান এক এ কথা জানান। তবে যুক্তরাষ্টের  কোন ধরনের নাগরিকদের সীমাবদ্ধতার আওতায় আনা হবে তিনি তা পরিষ্কার করেননি।

ঝাউ লিজিয়ান বলেন, কথিত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চীনের সংসদে পাস হওয়া হংকংবিষয়ক জাতীয় নিরাপত্তা আইন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে চীন আমেরিকার বিশেষ শ্রেণির নাগরিকদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..