বিশ্ব বাণিজ্য

চীনে স্মার্টফোন উৎপাদন বন্ধ করল স্যামসাং

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনে আর ফোন তৈরি করবে না দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। দেশটিতে অবস্থিত নিজেদের শেষ ফোন কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত শুক্রবার এক ই-মেইল বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই চীনের হুইঝো অঞ্চলে অবস্থিত ওই কারখানা বন্ধ করেছে তারা। খবর: এপি।
চীনে ক্রমবর্ধমান শ্রমিক খরচ ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অন্যান্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মতো দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও চীন থেকে তাদের মোবাইল ফোন কারখানা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘বাজারের চাহিদানুযায়ী চীনা কারখানায় থাকা উৎপাদন সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্রগুলো বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের কারখানায় প্রতিস্থাপিত করা হবে।’ ২০১৭ সালে চীনের কারখানায় ছয় হাজার কর্মী ছয় কোটি ৩০ লাখ ফোন উৎপাদন করেছিল বলে জানিয়েছিল স্যামসাং।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে সরে আসার কারণটি খোলাসা করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশটিতে ফোনের বাজার ধরতে অসুবিধা হচ্ছিল তাদের। বহু আগে থেকেই চীনে তৈরি হচ্ছে স্যামসাং ফোন, তারপরও দেশটির ফোন বাজারের এক শতাংশও দখল নিতে পারেনি তারা। মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য বাজারের এক শতাংশ ক্রেতা হাতে পেলেও, তা হারিয়েছে বহু আগেই।
প্রসঙ্গত, এর আগে আরেক বিশ্ব খ্যাত প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি বেইজিং থেকে তাদের স্মার্টফোন প্লান্ট সরিয়ে শুধু থাইল্যান্ডের কারখানায় স্মার্টফোন উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এখনও চীনে তাদের উৎপাদন চালু রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল।
বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার রিসার্চ নিজেদের এক প্রতিবেদনের আলোকে জানিয়েছে, চীনের ফোন বাজারে সংকটে পড়েছে স্যামসাং। দেশটির ফোনের ক্রেতারা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ নিজেদের জন্য স্থানীয় নির্মাতাদের তৈরি স্বল্পমূল্যের ফোন কিনে থাকে, আরেক ভাগ দামি ফোন কিনলেও পছন্দ করে অ্যাপল বা হুয়াওয়ের পণ্য। এরকম বাজারে কোনো দিক থেকেই প্রতিযোগিতায় সুবিধা করে উঠতে পারছে না স্যামসাং। এদিকে চীনে ফোন তৈরির খরচও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
এ টালমাটাল অবস্থা সামাল দিতে অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়ান এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এসে খরচ কমাতে নিজেদের একটি কারখানা বন্ধ করে দেয় স্যামসাং। আর এ বছরের জুন মাসে হুইঝো অঞ্চলের কারখানাটিতে নিজেদের উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিল এক ধাপ, তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি।

 

সর্বশেষ..