দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ

চীনে হাজার কোটি টাকার বিলেট রপ্তানির সুযোগ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: ইস্পাত উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন। আবার আমদানিতে দেশটি অষ্টম অবস্থানে। যদিও পরিবেশ দূষণ ও মানসম্মত ইস্পাত উৎপাদনে চীন সরকার বন্ধ করে দেয় মানহীন ইস্পাত কারখানাগুলো। ফলে স্থানীয় শিল্পের প্রয়োজনে বিকল্প দেশগুলো থেকে কয়েক কোটি মেট্রিক টন বিলেট আমদানি করতে হচ্ছে; যা বাংলাদেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জিপিএইচ ইস্পাত ২৫ হাজার মেট্রিক টন বিলেট চীনে রপ্তানি করতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা। চীনসহ অন্যান্য কয়েক লাখ টন বিলেট রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে সে সুযোগ কাজে লাগাতে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়াতে হবে।

বাণিজ্য-সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিশ্ববাজার থেকে বাংলাদেশের আমদানির ৩৫ শতাংশই আসে চীন থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয় সুতা এবং গার্মেন্টের কাপড়। এরপর আসে বিপুল পরিমাণে নানা ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও খুচরা যন্ত্রাংশ। বাংলাদেশ-চীন বার্ষিক আন্তঃবাণিজ্য পর্যায়ে বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। আড়াইশ থেকে ৩০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানিও করে বাংলাদেশ। যদিও চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০০ সালে ছিল মাত্র ৯০ কোটি মার্কিন ডলার; যা ২০২১ সাল নাগাদ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। সুতরাং আমাদের অপ্রচলিত পণ্যসহ শিল্প পণ্য রপ্তানির জন্য জোরদার সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো লাভবান হবে।

চীনে ইস্পাত রপ্তানিতে সুখবর দিচ্ছে জিপিএইচ ইস্পাত। চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই এক কোটি এক লাখ ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের বিলেট চালান চীনে রপ্তানি করতে যাচ্ছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৮৬ কোটি টাকা। এককভাবে এটিই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রপ্তানি আদেশ। এর আগে ২০০৮ সালের জিপিএইচ ইস্পাত শ্রীলংকায় আড়াই হাজার টন বিলেট রপ্তানি করেছিল।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল শেয়ার বিজকে বলেন, এশিয়ায় একমাত্র আমরাই কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তির এ কারখানা স্থাপন করেছি। ফলে আমরাই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় পরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করতে পারছি। এ কারণে চীনের মতো শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ আমাদের থেকে বিলেট আমদানি করছে। এটি আমাদের রপ্তানি তালিকায় নতুন সংযোজন। তিনি বলেন, শুধু চীন নয়, আরও কিছু দেশে রড রপ্তানির জন্য আমরা বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছি।

উল্লেখ, তিন বছর সময় ব্যয় করে কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তির এ কারখানা স্থাপনে সব ধরনের কাজ শেষ হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত। এখন সম্প্রসারিত প্রকল্পের দেশি-বিদেশি ২২ জন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পুরোদমে চলছে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। আর সব ঠিক থাকলে চলতি মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত জয়েন্ট প্লান্ট কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি ফিনিশড ইস্পাত আমদানি করেছে শীর্ষ উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ চীন। এ সময় দেশটির বাজারে ব্যবহারিক ধাতুটির রপ্তানি হয়েছে ১৯ লাখ টন। যেখানে গত বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র আড়াই হাজার টন। অন্যদিকে এ সময়ে ভিয়েতনামের বাজারে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ পৌঁছেছে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে ১০ লাখ ৪ হাজার টন ইস্পাত আমদানি করে ভারতীয় পণ্যটির শীর্ষ গন্তব্যস্থল ছিল দেশটি। একই প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারত ইস্পাতের নিট রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..