বিশ্ব বাণিজ্য

চীন ছেড়ে ভারতে ব্যবসা করার আহ্বান নির্মলা সীতারামনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে ধাক্কা খেয়েছে চীনের অর্থনীতি। দেশটিতে ব্যবসা করা বহু বিদেশি প্রতিষ্ঠান এ বাণিজ্যযুদ্ধে ক্ষতির কথা জানিয়ে আসছে। অনেকে আবার চীনের বদলে অন্য দেশে তাদের উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে। বেশ কিছু দিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারতের মোদি সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ওইসব প্রতিষ্ঠানকে চীন ছেড়ে ভারতে ব্যবসা করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর: আনন্দবাজার।  

গত কয়েকটি প্রান্তিকে ভারতীয় অর্থনীতির গতি কমেছে। চাহিদা কমতে থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগও কমেছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে অন্যতম হলো করপোরেট কর কমানো। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে বাড়তি মুনাফা এলে তারা বিনিয়োগও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত শনিবার ভারতীয় সময় গভীর রাতে ওয়াশিংটনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন সুবিধার বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান চীনের বদলে ভারতে বিনিয়োগ করতে চায় তাদের জন্য একটি নীলনকশা তৈরি করবেন তিনি। নির্মলা বলেন, ‘ওইসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে হবে। শুধু যারা চীন ছাড়ছে তাদের কথাই বলছি না, যারা এ ব্যাপারে ভাবছে, তাদেরও তালিকায় রাখতে হবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হতে পারে। ইউরোপীয় বা ব্রিটিশও হতে পারে। তাদের বোঝাতে হবে কেন ভারত বিনিয়োগের আদর্শ জায়গা। আমি দেশে ফিরে সেই নীলনকশা তৈরি করব।’

এ প্রসঙ্গে নির্মলা বলেন, আইএমএফের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি ও আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হারে প্রথম সারিতেই থাকবে ভারত। বিশ্বজুড়ে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে এ দেশের অবদানই থাকবে সবচেয়ে বেশি। তবে তিনি যে শুধু শুল্কযুদ্ধের সুবিধা নেওয়ার কথা ভাবছেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নির্মলা। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে রক্ষণশীলতার পরিবেশ সম্প্রতি তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলা সংঘবদ্ধভাবেই করতে হবে এবং তা করতে হবে বিভিন্ন স্তরে। যেমন জাতীয় স্তরে আর্থিক নীতি, ঋণ নীতি ও অর্থনীতির কাঠামোগত পদক্ষেপের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলেই তা বৃদ্ধিতে গতি আনতে সাহায্য করবে। আবার আইএমএফকেও এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সমস্যা ঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

সর্বশেষ..