বিশ্বসাথে

চীন-মার্কিন প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

শেয়ার বিজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে বহুল প্রত্যাশিত সমঝোতা চুক্তি আরও বিলম্বিত হয়ে আগামী ডিসেম্বরে স্বাক্ষর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে। সমঝোতার লক্ষ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ ধাপে ধাপে কমানোর বিষয়েও একমত হয়েছে দু’দেশ। খবর: রয়টার্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য বেশ কয়েকটি জায়গার কথা বিবেচনা করা হয়েছে। মূলত নভেম্বরের মাঝামাঝি চিলিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক নেতাদের সম্মেলনে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। এখন সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে লন্ডনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে আগামী ৩ থেকে ৪ ডিসেম্বর ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে এটি এখনও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বৈঠকের জন্য এশিয়া ও ইউরোপের বেশকিছু জায়গার কথা সামনে আসছে। এর মধ্যে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের কথাও শোনা যাচ্ছে বেশ জোরালোভাবে। তিনি বলেছেন, চীন উত্তেজনা নিরসনে দ্রুত চুক্তি করতে চায়। এটি এমন এক সময় হতে যাচ্ছে যখন ২০২০ সালের নির্বাচনে পুনরায় অংশ নেওয়ার আগে অভিশংসন হওয়ার চাপে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জাড ডিয়ারস বলেছে, দু’দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রথম দফা চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারিত হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে চীনের ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের রফতানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর আগেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি করার ব্যাপারে আশা করছে সব মহল। নতুন করে শুল্কারোপ করা হলে তার আওতায় চীনা ফোন, ল্যাপটপ কম্পিউটার এবং খেলনার মতো পণ্য থাকবে। তবে গতকাল চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং বলেছেন, দু’দেশ ধাপে ধাপে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এটিকে আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

দু’দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম দফা চুক্তির আগে গত সেপ্টেম্বরে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে চীন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সমঝোতা আলোচনার জন্য ১৫ ডিসেম্বরের শুল্কারোপের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আরোপিত ১৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার চাচ্ছে বেউজিং। এছাড়া এর আগে আরও অন্তত ২৫ হাজার কোটি ডলারের যন্ত্রাংশ ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্যে আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করেছে। চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন জানিয়েছেন, তারা চীনা রফতানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব শুল্ক যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহারের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন।

সর্বশেষ..