বিশ্ব বাণিজ্য

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে এটাই শেষ সুযোগ

ইইউকে বরিস জনসনের সতর্কবার্তা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেলেও ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ব্রেক্সিট সম্পর্কে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। গত রোববার তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনায় ইইউকে ‘সতর্ক’ করে দিয়ে বলেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে তার দেওয়া প্রস্তাবই শেষ সুযোগ। বরিস জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩১ অক্টোবরই ব্রেক্সিট কার্যকর হবে। সংসদের উদ্যোগে আনা আইন সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হতে দেবেন না তিনি। খবর: এএফপি ও ডয়েচে ভেলে।
সপ্তাহান্তেই জনসন তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইইউ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালাতে চেয়েছিলেন। সে প্রস্তাবের আওতায় উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশকে ব্রিটেনের শুল্ক কাঠামোর মধ্যে রেখেও সেখানে সাময়িকভাবে ইইউ’র কিছু নিয়ন্ত্রণ চালু থাকবে। ইইউ অবশ্য সে প্রস্তাবকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে পারছে না; কারণ অনেক বিষয় সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ব্রিটেন সরকারের কাছে সেসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ব্রাসেলস। তাই এমন প্রস্তাব নিয়ে এখনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনার কোনো কারণ দেখছে না ইইউ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ অবশ্য ব্রাসেলসে দু’পক্ষের মধ্যে জোরালো আলোচনার ডাক দিয়েছেন। ব্রিটেনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য বোঝাপড়া সম্ভব কি না, চলতি সপ্তাহের মধ্যে তা খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ইইউ’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনটি রিনে গত শনিবার বরিস জনসনের অনুরোধে টেলিফোনে তার সঙ্গে আলোচনা করেন। রিনে তাকে সাফ জানিয়ে দেন, ব্রিটেনের প্রস্তাবিত সমাধানসূত্র আয়ারল্যান্ডের গুড ফ্রাইডে চুক্তি, ইইউ’র ঐক্য ও অভ্যন্তরীণ বাজারের চলমান কাঠামো নিশ্চিত করতে পারছে না। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটেও শনিবার জনসনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রস্তাব সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে অনেক কাজ রয়েছে।
এদিকে ব্রিটেনের সংসদে বিরোধী পক্ষও হাত গুটিয়ে বসে নেই। সোমবার থেকে তারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে আরও উদ্যোগ নিতে চান। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি সম্ভব না হলে ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াতে সরকারকে বাধ্য করতে তারা বদ্ধপরিকর। সরকার স্কটল্যান্ডের এক আদালতে সংসদের উদ্যোগে আনা আইন মেনে চলবে বলে জানিয়েছে।

সর্বশেষ..