বিশ্ব বাণিজ্য

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ব্রিটেনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গভর্নরের সতর্কবার্তা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই বেরিয়ে যাওয়া ব্রিটেনের অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হলে পেট্রোল ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। এছাড়া পাউন্ড স্ট্যার্লিংয়ের আরও দরপতন হবে, যেটা অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খবর: বিবিসি।
সম্প্রতি বিবিসির এক অনুষ্ঠানে মার্ক কার্নি বলেন, ‘বাণিজ্য সম্পর্ক পরিবর্তন হলে প্রকৃত আয় কমে যাবে।’ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘোষণায় তার বিরুদ্ধে ‘প্রজেক্ট ফিয়ার’ আবার জাগ্রত করার অভিযোগ করেন কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নেতা লেইন ডানচান স্মিথ। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ‘প্রজেক্ট ফিয়ার’ ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি পরিভাষা, যা গণভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ইস্যুতে গণভোটের আগেও মার্ক কার্নি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, গণভোট হলে ব্রিটেনের অর্থনীতি মন্দায় পড়ে যাবে। ডানচান স্মিথের অভিযোগ, ভোটের পরে সে ধরনের কিছুই হয়নি। এখন আবার চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার পূর্বাভাস দিচ্ছেন মার্ক কার্নি। এজন্য তাকে প্রজেক্ট ফিয়ারের প্রবর্তক বলে আখ্যায়িত করেন ডানচান।
গত বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কোনো চুক্তি ছাড়াই যদি ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে চলতি বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক তিন শতাংশ, যেখানে আগের পূর্বাভাসে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যাংকের ওই পূর্বাভাসে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হলে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
তবে বিবিসিকে মার্ক কার্নি বলেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হলে ইউরোপে রফতানি ও ইউরোপ থেকে আমদানির নিয়মে পরিবর্তন আসবে। এর প্রভাবে ব্রিটেনের বৃহৎ ও লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অলাভজনক হতে যাচ্ছে। অর্থনীতি তাৎক্ষণিকভাবে ধাক্কা খাবে। গাড়ি নির্মাতা, খাদ্য প্রস্তুতকারক ও কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পক্ষে। তবে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা বাদ দিলে ইইউ’র সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসতে রাজি তিনি। তবে ইইউ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সময়ে যে চুক্তির খসড়ায় তারা রাজি হয়েছে, সেখান থেকে সরে এসে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর করতে হবে। এতে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশটির মুদ্রা পাউন্ড স্ট্যালিংয়ের বিনিময়মূল্য কমে ৩১ মাসের মধ্যে সর্বনিন্মে পৌঁছেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..