বিশ্ব বাণিজ্য

চুক্তি না হলে চীনের আরও পণ্যে শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে চীনের সঙ্গে প্রথম দফায় চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে দেশটি থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ হুমকি দেন। তার এ বক্তব্যের পর বিশ্ব পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পতন হয়েছে এশিয়ার সব বড় সূচকের। খবর: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি তাহলে আরও বেশি আমদানি পণ্যে শুল্কারোপ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটাচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের জন্য ভালো চুক্তি হলেই কেবল আমি তাতে স্বাক্ষর করব।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দু’দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন ও বেইজিং দু’দেশই আরোপিত শুল্ক ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নেবে মূলত এ সম্ভাবনায় পুঁজিবাজারের সূচক বেড়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পরই পুঁজিবাজারে আবারও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া হংকংয়ে চলমান চীনবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে, যা পুঁজিবাজারে সূচক পতনে ভূমিকা রাখছে।

গতকাল এশিয়ার পুঁজিবাজারের মধ্যে চীনের সাংহাই সূচক কমেছে দশমিক ৩৩ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাংকসেং সূচক কমেছে প্রায় দুই শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া ভারতের সেনসেক্স সূচক কমেছে দশমিক ৫৭ শতাংশ। 

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে বহুল প্রত্যাশিত সমঝোতা চুক্তি আগামী ডিসেম্বরে স্বাক্ষর হতে পারে বলে মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। লন্ডনে ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে। সমঝোতার লক্ষ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ ধাপে ধাপে কমানোর বিষয়েও একমত হয়েছে দু’দেশ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, আরোপিত শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র এখনই কমাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য বেশ কয়েকটি জায়গার কথা বিবেচনা করা হয়েছে। মূলত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে চিলিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক নেতাদের সম্মেলনে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। এখন সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে লন্ডনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে আগামী ৩ থেকে ৪ ডিসেম্বর ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে এটি এখনও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বৈঠকের জন্য এশিয়া ও ইউরোপের বেশকিছু জায়গার কথা সামনে আসছে। এর মধ্যে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের কথাও শোনা যাচ্ছে বেশ জোরালোভাবে। তিনি বলেন, চীন উত্তেজনা নিরসনে দ্রুত চুক্তি করতে চায়। এটি এমন এক সময় হতে যাচ্ছে, যখন ২০২০ সালের নির্বাচনে আবার অংশ নেওয়ার আগে অভিশংসন হওয়ার চাপে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..