সম্পাদকীয়

চুড়িহাট্টার আগুনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুন

অগ্নিকাণ্ড দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রায়ই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। এর মধ্যে কিছু অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, অনেক মানুষ নিজের সব স্বজনকে হারান। আবার একই পরিবারের সব সদস্যের মৃত্যুবরণের মতো ভয়াবহতাও পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। আবার যাদের অবহেলায় এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তদের তেমন শাস্তিও চোখে পড়ে না। কর্তৃপক্ষও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে না। ফলে যত্রতত্র গড় ওঠে রাসায়নিকের গুদাম; যা রাজধানীর পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে যারা সর্বশান্ত হন, তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না। তেমনই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে এক বছর আগে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে তাই ক্ষতিগ্রস্তদের দাঁড়াতে হয়েছে রাস্তায়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহল চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেই বিশ্বাস।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান মতে, ২০১৯ সালে দেশে মোট অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ২৪ হাজারের ওপরে। এ সংখ্যা অতীতের যে কোনো বছরের তুলনায় বেশি। এভাবে অগ্নিকাণ্ডের নতুন রেকর্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে। ফলে আগে যাদের মাটির বাড়ি ছিল, তারা কংক্রিটের দালান তুলছেন। কিন্তু এসব দালান তোলার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোড। একই সঙ্গে রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে অত্যন্ত ঘিঞ্জিভাবে গড়ে উঠছে দালান-কোঠা। যেগুলোয় অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হলে তা নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর উপায় থাকে না। এতে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করি।

গত ১০ বছরের ব্যবধানে দুটি ভয়াবহতম অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে পুরান ঢাকায়। এর একটি নিমতলীতে, অন্যটি চুড়িহাট্টায়। নিমতলীতে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। আর চুড়িহাট্টায়ও মারা যান ৭০ জনের অধিক মানুষ। দুটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই দায়ী ছিল রাসায়নিক গুদাম। আবাসিক ভবনে এভাবে রাসায়নিক গুদাম গড়ে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঢাকাসহ দেশের অনেক অঞ্চলে এখনও আমদানি পণ্য সরবরাহদের অন্যতম কেন্দ্র পুরান ঢাকা। কালের আবর্তে শহরের অনেক ব্যাপ্তি ঘটলেও ট্রেডিং ব্যবসার কেন্দ্র এখনও পুরান ঢাকা। এ অবস্থার পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণে সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। চুড়িহাট্টা ও নিমতলীর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয়, সেটাই সবার প্রত্যাশা। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..