এসএমই

চুনারুঘাটে মাল্টার কদর…

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিষমুক্ত মাল্টা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। কদর বেড়েছে মাল্টার। মাল্টার বাগানের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে এখানকার কৃষকদের। রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদন ও লাভ বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।

কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে হাতেগোনা কয়েকটি মাল্টার বাগান ছিল। বর্তমানে সে চিত্র পাল্টে গেছে। এখন পর্যন্ত এখানকার ১০ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতকের একটি বাগানে এ বছর ৪০ মণ আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে কয়েকগুণ বেশি মাল্টা ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী অনেক কৃষক।

চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের ময়নাবাদ গ্রামের চন্দনা ব্লকের কৃষক শাহনুর রশিদ চৌধুরী তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ২২০টি বারি মাল্টা-১ জাতের কলমের চারা নিয়ে ৫০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন। শাহনুর বলেন, প্রথম বছর তেমন মাল্টা না হলেও দ্বিতীয় বছর ৫০ হাজারের বেশি টাকার মাল্টা বিক্রি করি। বর্তমানে চীন থেকে আনা মাল্টা কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এ মাল্টা তেমন রসালো বা সুস্বাদু নয়। আমাদের এখানে উৎপাদিত মাল্টা যেমন রসাল, তেমনি সুস্বাদু। তিন থেকে চারটি মাল্টার ওজন এক কেজি। ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এক কেজি মাল্টা বিক্রি করলেও এ বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকা মুনাফা হবে।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মাল্টা কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। আশা করছি, আগামী বছরও আমার বাগানে তিনগুণ বেশি মাল্টা উৎপন্ন হবে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে চুনারুঘাটের মাল্টা রপ্তানি করা যাবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান অপু বলেন, সরকার কৃষি খাতের উন্নয়নে যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তা মূলত কৃষকদের জন্যই। প্রতি ৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ২০০ মাল্টা গাছ লাগানো সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, এখানে শস্যের আবাদ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের এখানকার মাল্টা বাগানের সাফল্যে আশপাশের কৃষকরাও অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, হবিগঞ্জে মাল্টা উৎপাদনে চুনারুঘাট এগিয়ে। ফলটির রোগবালাইও তুলনামূলকভাবে কম। দেশি কমলা গাছের সঙ্গে কলম করে বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ লাগানো যায় এবং দুই বছর পরিচর্যার পর প্রচুর মাল্টা ধরে। এ কারণে বাড়ছে মাল্টার বাগান।

এমএস জিলানী আখনজী

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..