দিনের খবর সারা বাংলা

চুয়াডাঙ্গায় বেগুনি রঙের ধান চাষে চাঞ্চল্য

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় কৃষকের আবিষ্কার নতুন জাতের ধান, জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অবাক কৃষি বিভাগও। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের দোস্ত গ্রামের দোকানে চায়ের আড্ডায় কিংবা কৃষকদের কাজের অবসরে আলোচনার বিষয় একই, সেটা কৃষক সাদেক প্রধানের নতুন জাতের ধান চাষ নিয়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় রীতিমতো ভিড় করছে তার বাড়িতে ও জমিতে। এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগ ধানের কোনো  নাম দেয়নি। এ ধানের রঙ বেগুনি।  

স্থানীয় কৃষক আবু সালেহ জানিয়েছেন, চারপাশে সবুজের মাঝে ‘রোপা আউশ’ বেগুনি ধানের ক্ষেত সত্যি দেখার মতো। সাধারণ জাতের ধানের চেয়ে এ ধানে ২৫টি থেকে ২৭টি কুশি ছড়িয়েছে। ব্যতিক্রমী এ বেগুনি ধানের চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছে কৃষক সাদেক আলী প্রধান।

ওই গ্রামের কৃষক মিজানুর রহামান বলেন, ‘আমাদের গ্রামের কৃষক সাদেক নিত্য নতুন জিনিস আবিষ্কার করেন। তিনি গ্রামে বিভিন্ন জাতের বীজ নিয়ে কুলের বাগান, মাল্টার বাগান  করেছেন। এবার ঝিনাইদহ থেকে বেগুনি ধানের বীজ এনে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন। আমরাও আগামীতে এ ধানের বীজ নিয়ে চাষ করব।’

আরেক কৃষক আত্তাব জানিয়েছেন, ‘দোস্তের মাঠে সাদেক বেগুনি জাতের ধান লাগিয়েছেন। এ ধান দেখতে ভালো, ফলনও ভালো  হবে। তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে আগামী মৌসুমে এ ধানের চাষ করব।’

কৃষক সাদেক আলী প্রধান জানান, গত বছর ঝিনাইদহে বেগুনি রঙের ধান চাষ হচ্ছে জানতে পেরে জনৈক চাষির মাঠে যান তিনি। ধান চাষির দেখা না পেয়ে  তার ধান ক্ষেত থেকে একটি ধানের শীষ ছিঁড়ে হাতে করে নিয়ে আসেন। তার ধান তখনও পাকেনি, পাকা পাকা ভাব হয়েছে। ওই শীষে ২৭টি দানা ছিল। ২৭টি দানা দিয়ে একটি বীজতলা তৈরি করেন তিনি। ওই বীজতলা থেকে চারা রোপণ করেন। পরে তা থেকে ১০ কেজি ধান পায়। সেই ধান পুনরায় বীজতলায় ফেলে চারা তৈরি করেন। সেই চারা দিয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসে শেষের দিকে এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০ শ্রাবণ ওই ধানের বয়স বীজতলাসহ ৭৫ দিন। এরমধ্যে বীজতলায় ২০ দিন ছিল। তিনি জানান, ‘ধান ঘরে আসতে ভাদ্র মাস লেগে যাবে। শখের বশে বেগুনি রঙের ধান দেখতে গিয়ে একটি ধানের শীষ হাতে করে নিয়ে আসা থেকে এ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ধান ঘরে না আসতেই অনেকে বীজ নেওয়ার জন্য বলে রেখেছে।’

এদিকে সেখানে উপস্থিত কৃষকদের গ্রামের প্রচলিত ধানের জাত নিয়ে কৌতূহল না থাকলেও এ নতুন জাত নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলী দেখা গেছে। কৃষক সাদেকের এই ধানের চাষ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন লোক আসছেন। তবে সাদেকের বেগুনি ধানের বীজ নিয়ে অন্তত একবার চাষ করার ইচ্ছা আছে তাদের।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দোস্ত গ্রামের সাদেক একজন আধুনিক কৃষক। তিনি এলাকায় নতুন নতুন ফসলের চাষ প্রথমে শুরু করেন। তার দেখে অন্যরা ওই ফসলের চাষ এলাকায় শুরু করেন। ঝিনাইদহে বেড়ানোর সুবাদে একটি ধানের শীষ নিয়ে এসে পর্যায়ক্রমে দুইবার চাষ করে ধান বীজ তৈরি করেন।

তিনি জানান, ওই বীজ দিয়ে নিজের বীজতলায় ধানের চারা তৈরি করে আউশ মৌসুমে তার নিজের এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করে আবার এলাকায় উদাহরণ তৈরি করেছেন। এটা কৃষি বিভাগের রিকমেন্ড কোনো জাত না। তারপরও এখন পর্যন্ত গ্রোথ ভালো। রোগও তুলনামূলক কম। আমরা নিয়মিত দেখাশোনা করছি।

তিনি আরও বলেন, জাতটা নতুন, কালার বেগুনি। খুব আকর্ষণীয় হওয়ায় তার ধান ক্ষেত দেখতে দলে দলে মানুষ  আসছে। কাটিং এ  দেখা যাক ফলন কেমন হয়? যদি ফলন আশানুরূপ হয়, তাহলে আমরা সাদেকের মাধ্যমে আউশের মৌসুমে ঘরে ঘরে এ জাতটা পৌঁছে দিতে পারব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফি রফিকুজ্জামান বলেন, ‘এটা সচরাচর ধানের জাতের মতো। রঙ বেগুনি। বেগুনি রঙের হওয়ায় দেখতে সুন্দর দেখাচ্ছে। এ জন্য মানুষ তার জমিতে ধান দেখতে আসছে। ফলন ২০-২২ মণের মধ্যেই থাকবে।’

তিনি বলেন, শখের বশে সদরের দোস্তের সাদেক প্রধান লাগিয়েছে। জেলাতে কতটুকু চাষ হয়েছে এ তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। চাল দেখতে একটু বেগুনি রঙের হবে বলেও জানান তিনি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..