সুশিক্ষা

চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণকাজের উদ্বোধন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ স্থাপন প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছে। তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ক্যাম্পাসে এটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলপথ-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

পরে চুয়েট কাউন্সিল কক্ষে আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্পের ‘সোশ্যাল মিডিয়া প্যারেড’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও ইনকিউবেটরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এটিএম শাহজাহান।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে চুয়েটে ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ স্থাপন করা হচ্ছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়েট ক্যাম্পাসে পাঁচ একর জমির ওপর ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট ইনকিউবেটরটি নির্মাণ করা হবে। ২০২০ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ার কাজে মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে চুয়েটের এ মেগা প্রজেক্ট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ লাখ থেকে ১০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটা পোস্ট শেয়ারে অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেজন্য ডিজিটাল স্পেসকে নিরাপদ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু নিজে জেনে চুপ থাকলে হবে না, আশপাশের সবাইকে সচেতন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, চুয়েট হচ্ছে মানুষের ভবিষ্যৎ তৈরির কারিগর। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হচ্ছেন ‘ক্রিম অব দ্য সোসাইটি’। চুয়েটে নির্মিতব্য আইটি ইনকিউবেটর তরুণদের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এ সময় তিনি ফেসবুকে মানহানি ও অবমাননাকর ঘটনা বন্ধে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর দেশবাসীর জন্য একটা ড্রিম প্রজেক্ট। এর মাধ্যমে দেশের আইটি সেক্টরের সবাই উপকৃত হবেন। আইটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরি ও নানা সৃজনশীল আইডিয়াকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এ ইনকিউবেটর মাইলফলক হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২৬তম সভায় ২০১৭ সালের ৬ জুন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় আইটি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইটি শিল্পে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সুযোগ আরও অবারিত হবে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় প্রত্যাশিত মাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..