সুশিক্ষা

চুয়েটে পুরকৌশলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল অনুষদের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী টেকসই উন্নয়নে পুরকৌশল খাতের অগ্রগতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু হয়েছে। ফিফথ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাডভান্সেস ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং; আইসিএসিই-২০২০ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী গত কয়েক দশক ধরে দেশের ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পুরকৌশলীরা অবদান রেখে চলেছেন। পুরকৌশলীদের ছাড়া দেশে দ্রুত এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্ভবপর হতো না। ইনোভেশন ও গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখতে পারে। ২০৪১ সালের আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি কভিড পরিস্থিতিতেও এই ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। এই কনফারেন্স হতে প্রাপ্ত আউটপুট দেশকে প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মহামারির কারণে এবার প্রথমবারের মতো কনফারেন্সটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে টেকসই করতে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মিশনও টেকসই উন্নয়ন। সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করেছে। দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজšে§র জন্য টেকসই উন্নয়ন ও টেকসই প্রযুক্তি সুফল বয়ে আনবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাডেমিশিয়ান, গবেষক ও ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। ২০৪১ সালে আমরা বৈষম্যহীন একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে চলমান মেগা প্রজেক্ট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পুরকৌশলীদের প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। দেশে এসব উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে বিদেশি প্রকৌশলীদের নির্ভরতা কমাতে হবে। চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করেছে।’

কনফারেন্স চেয়ার ও পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রবিউল আলম। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কনফারেন্স সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. বিপুল চন্দ্র মণ্ডল। পুরকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল আচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রয়্যাল সিমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল মনসুর ও বিএসআরএমের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার মো. তাজুল ইসলাম।

এ কনফারেন্সে আট প্লেনারি লেকচারসহ ২৪টি টেকনিক্যাল সেশন রয়েছে। যেখানে ইস্টাকচুয়াল ইনভায়রনমেন্টাল, ওয়াটার রিসোর্সেস, জিওট্যাকনিক্যাল, ট্রান্সপর্টেশন সাসটেইনেবল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট সংশ্লিষ্ট গবেষণা উপস্থাপন করা হচ্ছে। এবার দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৯১টি অ্যাবস্ট্র্যাক্ট জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪৪৮টি নেয়া হযেছে। পরবর্তী সময়ে ২৬৫ পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা প্রস্তাব থেকে রিভিউ করে ১৯০টি প্রকাশনা কনফারেন্সে উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া কনফারেন্সে উপস্থাপিত প্রকাশনা থেকে প্রায় ৬০টি প্রকাশনা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্প্রিংজার থেকে প্রোসিডিংস অব আইসিএসিই-২০২০ প্রকাশ করা হবে।

৬ মার্চ শনিবার কনফারেন্সের সমাপনী হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। কনফারেন্সে উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সমাধানগুলো পুরকৌশল সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে। কনফারেন্সের সব তথ্য যঃঃঢ়ং://রপধপবপঁবঃ.ড়ৎম ওয়েবাসইটে পাওয়া যাবে।

কনফারেন্স আয়োজনে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে রয়্যাল সিমেন্ট লিমিটেড, বিএসআরএম ও ইউজিসি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..