সারা বাংলা

চুয়াডাঙ্গায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুতে ইতিবাচক বাংলাদেশ-ভারত

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে। এর ফলে দুদেশে আমদানি-রফতানির নতুন দ্বার উম্মোচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলৎগঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া দিয়ে ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সড়কপথে ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি চালু ছিল। ইন্দো-চায়না ও ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে ওই স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭২ সালে ফের কার্যক্রম চালু হলেও পরবর্তীকালে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি স্টেশনটি চালুর প্রস্তাব রাখলে ভারত তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চালু করতে রাজি হয়।
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার আবদুল আলীম জানান, বাংলাদেশের দর্শনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি চালু রয়েছে। আবার ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে সপ্তাহের বন্ধের দিন ছাড়া দর্শনা হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন ভারতের কলকাতার চিৎপুর পর্যন্ত যাতায়াত করছে। এ ক্ষেত্রে ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য দেশে আমদানি হলেও রফতানি করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ভারত থেকে রেলে পণ্য আমদানি করার ফলে দর্শনা অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে না। কারণ, আমদানি পণ্য সবই রেল যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো নির্দিষ্ট রেলস্টেশনে গিয়ে খালাস হচ্ছে। সে কারণে এখানকার শ্রমিকদের তেমন কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই পরিবহনের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ ট্রাক প্রয়োজন পড়ছে না।
পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালু হলে দর্শনা ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। এখানে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা চালু হবে, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রাক-লরি ভাড়া, বেশিসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিদিন ভারত থেকে (৪২টি রেল ওয়াগন) এক র‌্যাকের অধিক এবং ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য দর্শনায় ঢুকলে প্রতিদিন সেগুলো খালাস করতে ২০০ ট্রাক ও কয়েকশ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হবে। সে সঙ্গে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ৫০০-৬০০ ট্রাক আসছে; সেগুলো খালাস করতে তিন থেকে ১৮ দিন সময় লাগে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা। দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হলে সেখান দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ ট্রাকের পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে। এতে বেনাপোল স্থলবন্দরের ওপর থেকে চাপ কমবে এবং আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।
দর্শনা ল্যান্ড কাস্টম স্টেশন দফতর থেকে জানা যায়, গত বছরের ৮ ও ৯ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস’-এর ১২তম যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রেলওয়ে ওয়াগনে দর্শনা-গেদে রুটের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানি করা হয়। সভায় ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট ও ভারতের গেদে অংশের ৮০০ মিটার রাস্তা খুবই সরু। রাস্তাটির উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সে সঙ্গে দর্শনার ২০০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করার বিষয়েও বলা হয়।
তাছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলৎগঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া দিয়ে ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সড়কপথে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি চালু ছিল। ইন্দো-চায়না ও ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে ওই স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আবার সেটির কার্যক্রম ১৯৭২ সালে চালু হয়। জনসাধারণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ওই স্টেশনটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চালুর প্রস্তাব রাখলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু রাস্তা উন্নয়নের কারণে এখনই দর্শনা-গেদে দিয়ে সড়কপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয়, তাই বাংলাদেশের প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ কার্যক্রম চালু করতে রাজি হয়েছে ভারত।
দর্শনা স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার আবদুল আলীম জানান, ২০১৮ সালের ৮ ও ৯ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস’ ১২তম যৌথসভায় জীবননগরের দৌলৎগঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া পথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করতে রাজি হলেও এর বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব নয়; কারণ জীবননগরের দৌলৎগঞ্জে কোনো অবকাঠামো নেই, যা আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে দর্শনার অবস্থান সুবিধাজনক।

সর্বশেষ..