Print Date & Time : 2 July 2022 Saturday 12:09 pm

চুয়াডাঙ্গায় সবজির বাম্পার ফলন

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গায় শীতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিন চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ বাজার থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। সবজির ভালো মূল্য পেয়ে খুশি এখানকার কৃষক। খবর বাংলা ট্রিবিউন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে শীতকালীন সবজি চাষাবাদ শুরু হয়, যা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ বছর আট হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আট হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, মূলা, শাচি (বান), লাউ, মাইটা লাউ, কচু, বরবটি, আলু, ঝিঙ্গা ও বেগুন প্রভৃতি। কৃষকেরা সবজিতে অধিক মূল্য পাওয়ায় নতুন করে শাক-সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

সরোজগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, বেগুন ও লাউসহ বিভিন্ন রকমের সবজি উঠেছে। কৃষকরা ভ্যান, ভটভটি (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন) ও মিনি ট্রাকে করে বাজারে সবজি নিয়ে আসছেন। তারা পাইকারি হিসেবে প্রতি মণ (৪০ কেজি) মূলা ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা, ফুলকপি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা, করলা ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা, বেগুন ১ হাজার টাকা, মাইটা লাউ ১০০ পিস ৭০০ টাকা, শাচি লাউ ১০০ পিস ১ হাজার ৬০০ টাকা, বাঁধাকপি ১০০ পিস ১ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। তবে খুচরা বাজারে এর মূল্য অনেক বেশি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক নূর ইসলাম মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুন বিক্রির জন্য সোমবার বাজারে যান। তিনি জানান, এবার তিনি ১০ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। সবজি বিক্রি করে ভালোই লাভবান হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বছর সবজি চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাদন নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন কৃষকদের সবজি চাষের জন্য দাদন নিতে হয় না। তবে ধান, ভুট্টা ও পাটের সময় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে দাদন নিয়ে চাষ করে থাকেন। একই মন্তব্য করেন, সদর উপজেলার বোয়ালগাছি গ্রামের চাষি বাক্কা মিয়া, একই গ্রামের নুরুল ইসলাম, ছয়ঘরিয়া গ্রামের আবু বকর, কিরণগাছি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও সুবদিয়া গ্রামের জামাত আলী।

পাইকারি ক্রেতা (ব্যাপারি) মকসেদপুর সদরের আনুর হোসেন জানান, তিনি এ বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে ঢাকা কারওয়ানবাজার, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রামের চৌমোহনীতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। ঢাকায় ট্রাক ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তার প্রতি কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে সাত থেকে আট টাকা ও বরিশালে চার থেকে পাঁচ টাকা খরচ পড়ে। তিনি প্রতি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা লাভ করে থাকেন। গোপালগঞ্জের একরাম শুধু চট্টগ্রামের চৌমোহনী বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি ও মূলাসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করে থাকেন। ঢাকার পাইকারি ক্রেতা রুবেল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবুর জানান, প্রতিদিন তারা সরোজগঞ্জ বাজার থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ সবজি কিনে থাকেন। প্রতি রাতেই তারা ট্রাকে মাল পাঠিয়ে দেয়। প্রতি মণে তাদের সব মিলিয়ে ২০০ থেকে আড়াইশ টাকা খরচ পড়ে। তারা দাবি করেন, সামান্য কিছু লাভে তারা মাল বিক্রি করে দেন।

সরোজগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ শেখ জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি জেলার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জ সবজির বাজারের জন্য প্রসিদ্ধ। এখানে স্থানীয় ৪২ জন ও অস্থায়ী ১৫ জন আড়তদার রয়েছেন। তারা প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। বছরের শীতকালীন ছয় মাস প্রতিদিন গড়ে ৬০ ও অন্য ৬ মাস ২৫টি ট্রাক সবজি ভর্তি হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। কয়েকদিন পরে আলু উঠলে প্রতিদিন অন্তত ১০০ থেকে ১২০ ট্রাক মাল বাইরে যাবে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন সবজি খাতে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা বেচাকেনা হয়ে থাকে এ বাজারে। তার হিসেবে শীতকালীন ছয় মাসে ২৭০ কোটি টাকা ও অন্য ছয় মাসে ১১২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সবজি জেলার বাইরে যায়। সব মিলিয়ে শুধু সরোজগঞ্জ বাজার থেকে বছরে ৩৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সবজি কেনাবেচা হয়ে থাকে।

আড়তদাররা জানান, জেলায় বিপুল পরিমাণ সবজি চাষাবাদ হলেও সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। সংরক্ষণের অভাবে হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ সবজি পচে নষ্ট হয়ে যায়। তারা সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা নির্মল কুমার দে জানান, জেলায় প্রতি বছর দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮০ মে. টন সবজি চাষ হয়ে থাকে। গড়ে ২০ টাকা কেজি দরে ৫৯৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। চুয়াডাঙ্গায় কৃষকরা বছরে একই জমিতে দুই থেকে তিনবার চাষাবাদ করে থাকেন। এছাড়া সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় এখন কোনো কৃষককে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিতে হয় না।