সারা বাংলা

চুয়াডাঙ্গায় সোলার পাম্পে বোরো চাষ

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত পরিবেশবান্ধব সোলার পাম্প। চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সৌরচালিত ১৮টি গভীর নলকূপ চালু হওয়ায় তিন হাজারেরও বেশি কৃষক সুলভ মূল্যে সেচের পানি পাচ্ছেন। এতে একদিকে খরচ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সার্বক্ষণিক সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে কৃষকদের।
জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন মাঠে ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা ১৮টি সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করেছে। তাদের আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দিয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। এসব পাম্প থেকে এক হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে উপকৃত হবেন তিন হাজার ৮০ কৃষক।
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের আওতায় তিন বিঘা জমি চাষ করেছেন। এ ব্যবস্থার কারণে পানির অপচয় হয় না। চাষের ব্যয়ও কম হয়। শুষ্ক মৌসুমে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দিতে বিঘাপ্রতি তার ব্যয় হতো প্রায় পাঁচ হাজার টাকা, বর্তমানে তিন হাজার টাকায় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সদর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের মোনায়েম হোসেন জানান, তিনি সৌর পাম্পের চালক। উজানগাড়ি মাঠটি উঁচু-নিচু। উঁচু ধানের জমিতে তিন হাজার টাকা ও নিচু জমিতে দুই হাজার ৫০০ টাকা এক মৌসুমে সেচ বাবদ খরচ হয়। শুষ্ক মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে শ্যালো ইঞ্জিন দ্বারা সেচ বাবদ ব্যয় হতো প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। এখন তা তিন হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
একই গ্রামের কৃষক শান্ত বিশ্বাস জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন, তার খরচ হবে পাঁচ হাজার টাকা। আগে খরচ হতো ১২-১৪ হাজার টাকা।
ওয়েব ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী কিতাব আলী জানান, এ প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের শুধুু জমি থাকতে হয়। এ বাবদ তিনি লিজের টাকা ছাড়াও বছরে ৮৪ হাজার টাকা পাবেন। সব মূলধন ইডকল সরবরাহ করবে। কৃষকদের চাহিদামতো প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব পাম্প চালানো যাবে। সৌরচালিত হওয়ায় রাতে এসব পাম্প বন্ধ থাকবে। প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিন বা বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের চেয়ে সৌরচালিত পাম্প অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়। যে কোনো বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপে বছরে সেচ খরচ হয় আট-দশ হাজার টাকা, আর ডিজেল ইঞ্জিনচালিত অগভীর নলকূপে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। সেখানে সৌরচালিত গভীর পাম্পের আওতায় এক বিঘা জমিতে সেচখরচ ধরা হয়েছে মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা। প্রতিটি পাম্প থেকে ২০০ বিঘা জমিতে সহজে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এ সোলার পাম্প থেকে প্রতি ঘণ্টায় আড়াই লাখ লিটার পানি উত্তোলিত হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..