সুশিক্ষা

চুয়েটে ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপিত

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, টেকসই উন্নয়নে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ এখন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদনশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সনাতনী চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পুঁথিগত শিক্ষাদানের মাধ্যম নয়। তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি গবেষণা ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে হবে। এজন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে জনকল্যাণকর গবেষণা ও প্রায়োগিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের টেকসই উন্নয়নে এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে ভাবতে হবে। কারিগরি ও
প্রযুক্তিগত পরামর্শ সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নির্ভরতা বেড়ে গেছে। এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রামে চুয়েটের কাজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। এখানকার শিল্প-কারখানা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। এভাবে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অঞ্চলভিত্তিক অবদান রাখতে হবে।
বিশ্ব এখন তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। ১ সেপ্টেম্বর চুয়েট ১৭তম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ও চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রণজিৎ কুমার সূত্রধর, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো রবিউল আলম, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড.
মোহাম্মদ মশিউল হক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমাদের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইনোভেশন, গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোলাবোরেশন বাড়াতে হবে। দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে। চুয়েটের গ্র্যাজুয়েটদের
ব্লু-ইকোনমি, জলাবদ্ধতা, যানজট বিষয়ে কাজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। এজন্য একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে চুয়েট দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা-গবেষণায় দেশে একটা অবস্থান করে নিয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যথার্থতার পরিচয় ঘটে মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে। পাশাপাশি গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে এগিয়ে যায়। চুয়েট একটি বিশেষায়িত ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, তাই দেশের বর্তমান উন্নয়নযজ্ঞের অবকাঠামো ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় চুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তাই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীন, ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হুমায়রা জান্নাত মীম ও পুরকৌশল বিভাগের একেএম সাজিদ উদ্দিন আহমেদ জয়। সঞ্চালনায় ছিলেন পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়শা আক্তার ও ইটিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজাদ হোসাইন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনসহ শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে চুয়েটের
শিক্ষা-গবেষণার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়) মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ছাত্র বনাম শিক্ষক ও কর্মকর্তা বনাম কর্মচারী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রভৃতি।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় থেকে বিআইটি, চট্টগ্রাম ও পরবর্তী সময়ে স্বায়ত্তশাসিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যাত্রা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..