দিনের খবর প্রথম পাতা

চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ

অর্থবছর ২০১৯-২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গত বছরের আগস্টে অর্থবছরটির প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছিল বিবিএস। তখন জানানো হয়েছিলÑঅর্থবছরটিতে প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায়ও এ হিসাবটিই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও তার আগের অর্থবছর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। মূলত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণেই প্রবৃদ্ধি এতটা হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। বিবিএসের এ হিসাবকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিএসের ওয়েবসাইটে একযোগে গতকাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব প্রকাশ করা হয়। সাময়িক হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ; যদিও ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থবছরটির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিবিএসের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থনীতির প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিল্প খাত। এ খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা এক ধাক্কায় নেমে আসে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে। যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরে এ চিত্রের কিছুটা উন্নতি হয়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। দেশের মোট অর্থনীতিতে শিল্প খাতের শেয়ার প্রায় ৩১ শতাংশ।

এরপর ক্ষতিগ্রস্ত খাত সেবা খাত। দেশের মোট অর্থনীতিতে এ খাতের শেয়ার প্রায় ৫৬ শতাংশ। করোনার ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে আসে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আর করোনার প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল কৃষি খাত। অন্য দুটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিকই ছিল। এ খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশে উন্নীত হয়। দেশের মোট অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩ শতাংশের মতো। মূলত শিল্প ও সেবা খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

এ বিষয়ে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারির ফলেই মূলত প্রবৃদ্ধি কমেছে। কারণ ২০১৯-২০ অর্থবছরের অনেকটা সময়জুড়ে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির ছিল। যার প্রভাব প্রবৃদ্ধির ওপর পড়েছে। করোনার সার্বিক ক্ষতির হিসাব-নিকাশে প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ইতোমধ্যেই প্রবৃদ্ধির প্রতিবেদন আমরা প্রকাশ করেছি। একসঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছি। চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমেছে। আমার মনে হয়, এটা লুকানোর কিছু নয়। পরিসংখ্যানে সঠিক তথ্যে উঠে এলে দেশের উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা নেয়া সহজ হয়।’

এদিকে বিবিএসের এ হিসাবের প্রতি অনেকটা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলেÑবিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, বিগত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে বেশ বিতর্কের উদ্ভব হয়েছিল। এবারের হিসাব দেখে মনে হয়েছে, বিবিএস পূর্বের ধারা থেকে অনেকটা সঠিক হিসাবের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকা আবশ্যক।

তিনি বলেন, এবারের প্রবৃদ্ধির হিসাবটা আমার কাছে অনেকটা বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। করোনা মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। যার প্রভাব প্রবৃদ্ধির ওপর পড়বেÑ এটা স্বাভাবিক। সে বিবেচনায় প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবটি নিয়ে বিতর্কের তেমন অবকাশ নেই। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে শুরুর দিকে কোনো লকডাউন ছিল না। ফলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ পেয়েছিল। যে কারণে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের সাময়িক হিসাবে যে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, তা অনেকটাই বাস্তবসম্মত। তবে মার্চের পর থেকে দফায় দফায় লকডাউন হয়েছে। কাজেই চূড়ান্ত হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিও কিছুটা সংশোধন হতে পারে। তবে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্জিত এ প্রবৃদ্ধি প্রশংসনীয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..