সম্পাদকীয়

চেক জালিয়াতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

দেশে আর্থিক লেনদেনে নগদ অর্থের চেয়ে ব্যাংকের ব্যবহার বেড়েছে। এর প্রধান কারণ নিরাপত্তা, নির্ভরতা ও সুরক্ষা। গত বছর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণাভিত্তিক তথ্য হলো ব্যাংকিং খাতের ৪৩ শতাংশ জালিয়াতির ঘটনা প্রযুক্তিভিত্তিক। কিন্তু প্রযুক্তিভিত্তিক ঝুঁকিই একমাত্র ঝুঁকি নয়। এখন চেকের নম্বর পরিবর্তন করে টাকা তুলে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রধান প্রতিবেদনে সেটিই উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট শাখায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় জমা হয় আরেকটি ব্যাংকের একটি চেক। চেকের নম্বর ও স্বাক্ষরে মিল থাকায় ১৫ লাখ টাকার চেকটি অর্থছাড়ের অনুমতি দেয় মূল ব্যাংক। পরবর্তীকালে হিসাবধারী গ্রাহক জানান, ওই অর্থের চেক তিনি কাউকে দেননি। শেষমেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত পান গ্রাহক।
একসময় চেক জালিয়াতি ছিল, চেকে উল্লিখিত টাকার অঙ্কে ঘষামাজা কিংবা হিসাবধারীর স্বাক্ষরে গরমিল। কিন্তু এখন চেকের নম্বর পরিবর্তন করা হচ্ছে। এমন জালিয়াতির সঙ্গে চেক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন জড়িত থাকতে পারে। থাকতে পারে ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ।
বর্তমানে ম্যাগনেটিক ইংক ক্যারেক্টার রিকগনিশন (এমআইসিআর) চেক ব্যবহার হচ্ছে। এটি আগে প্রচলিত চেকের চেয়ে বেশি নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য নিয়ে তৈরি। এমন চেক দিয়ে টাকা ওঠাতে কয়েকটি ধাপে চেকের অকৃত্রিমতা যাচাই করেন ব্যাংককর্মী। যাচাইয়ে সন্তুষ্ট হলেই অর্থছাড় করা হয়। এখন ব্যাংকে লেনদেন অনেক সহজ। অনলাইন ব্যাংকিং চালু, এমআইসিআর চেক প্রচলন ও অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজ চালু হওয়ায় ব্যাংক খাতে চেক নিষ্পত্তিতে নতুন গতি এসেছে। গ্রাহকরা নিজ ব্যাংকের সব অনলাইনভুক্ত শাখাগুলো থেকেও টাকা তুলতে ও জমা দিতে পারেন। এতে চেক উপস্থাপনকালীন তা যাচাইয়ের জন্য গ্রাহককে উপস্থিত থাকতে হয় না।
এ ‘আধুনিক পদ্ধতি’ নিঃসন্দেহে স্বস্তি গ্রাহককে দিয়েছে কিন্তু তা অর্থের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান।
গ্রাহকের অর্থের সুরক্ষা দেওয়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। চেকের নম্বর পরিবর্তনে গ্রাহকের দায় নেই। এ ধরনের প্রতারণা রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চেক জালিয়াতি ইস্যুতে গ্রাহককে সুরক্ষা ও তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। জালিয়াতিতে ব্যাংক কর্মকর্তার অসতর্কতা বা গাফিলতি প্রমাণ হলে এবং তাতে হিসাবধারীর অর্থ খোয়া গেলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ নজরদারি ও অগ্রগতি মূল্যায়ন করলে চেক জালিয়াতি কমবে।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..