সারা বাংলা

চৈত্রেই ডুবছে হাওরের বোরো

কাজল সরকার, হবিগঞ্জ: গেল দুবছর হাওরের কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। আগাম বন্যায় বিস্তীর্ণ হাওরের আধা পাকা ধান তলিয়ে যায়। এবার দেখা দিয়েছে আরও বড় বিপত্তি। কেননা এখনও চৈত্রই ফুরোয়নি। তাতেই অতি আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জে হাওরে ডুবতে শুরু করেছে বোরো ক্ষেত। সেই সঙ্গে ডুবে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নও।
কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি উঠতে শুরু করেছে। আবার কোথাও কোথাও ছোট ছোট বাঁধগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে পানি হাওরে ডুকছে। ইতোমধ্যে নিচু এলাকার জমিগুলোর কাঁচা ও আধা পাকা ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের তথ্যমতে জেলার তিন উপজেলায় প্রায় কয়েকশ’ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
এদিকে, উঁচু জমির ধান নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকের। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলে কাঁচা ধানই পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক।
অন্য বছর বৈশাখের মাঝামাঝি বন্যা দেখা দেয়। এ সময় জমির ধান অধিকাংশই পেকে যায়। ফলে পানিতে ডুবে যাওয়া কিছু ধান কেটে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু এ বছর যে জমিগুলো পানিতে ডুবে গেছে সেগুলো সম্পূর্ণ কাঁচা। ফলে কাটার কোনো উপায় নেই। এছাড়া কয়েক হাজার একর জমির ধান এখন পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে।
কৃষকদের তথ্য মতে, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার প্রায় কয়েকশ’ একর জমির কাঁচা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আর কয়েক হাজার একর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম, গলা পানিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেগুলোও তলিয়ে যাবে। এদিকে, প্রতিদিন মেঘ-বৃষ্টি আর ঝড়ের খেলা চলছে দিনরাত। এতে আহার-নিদ্রা উবে গেছে হাওরপাড়ের কৃষকের।
কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিন বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আর এসব নদ-নদীর পানি বিভিন্ন খালবিলের মাধ্যমে হাওরে প্রবেশ করছে। এছাড়া বৃষ্টির পানিও হাওরে জমা হচ্ছে। ফলে হাওরের নিচু জমিগুলো ডুবতে চলেছে। তবে ইতোমধ্যে অনেকগুলো জমি ডুবেও গেছে।
বানিয়াচং উপজেলার হারুনী গ্রামের কৃষক সুদাংশু দাস জানান, তার অনেক জমির ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত দুবছর চাষ করেও কোনো ধান ঘরে তুলতে পারেননি। এ বছরও যদি একই অবস্থা হয় তাহলে না খেয়ে মরা ছাড়া কিছু করার নাই।
একই এলাকার কৃষক দ্বিজেন্দ্র দাস জানান, এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন পানি বেড়ে চলেছে। উঁচু জমির ধানগুলো তুলতে পারবেন তারও কোনো ভরসা পাচ্ছেন না। গত দুবছরের ঋণই এখনও পরিশোধ করতে পারেননি। এ বছর আবার একই বিপত্তি। এবার হাওরের মানুষদের মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরের মোতাহের মিয়া জানান, অন্য বছর বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার দেখা দেয়। এতেও সব ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এ বছর চৈত্র মাসেই যেখানে অনেক ধান তলিয়ে গেছে সেখানে ধান ঘরে তুলার স্বপ্ন তো স্বপ্নই থাকবে। এখন চৈত্রের খড়ায় ঘর থেকে বেড় হওয়া দায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির কারণে বেড় হওয়া যাচ্ছে না। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।
যদিও বিষয়টি অনেকটা এড়িয়ে গেলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, গতকালও বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু তাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। তাছাড়া উপজেলা অফিসসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বক্তব্যের ঘণ্টাখানেক পর তিনি মোবাইল ফোনে জানান, সামান্য কিছু জমি তলিয়েছে। তবে সেগুলো একদম নিচু এলাকার জমি। তাছাড়া কোনো বাঁধ ভাঙেনি। কয়েকটি নদী পারাপারের রাস্তা ভেঙেছে। তবে এতে হাওরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না।

সর্বশেষ..