বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়

ডিসিসিআইয়ের ওয়েবিনারে বক্তারা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারির নানামুখী প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও গত ছয় মাসে দেশের অর্থনীতি কাক্সিক্ষত মাত্রায় পরিচালিত হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে আরও বেশকিছু কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে গতকাল ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এবং পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ বিশেষ আলোচক হিসেবে যোগ দেন।

ওয়েবিনারের মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারির নানামুখী প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও গত ছয় মাসে দেশের অর্থনীতি কাক্সিক্ষত মাত্রায় পরিচালিত হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে আরও বেশকিছু কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৩৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উন্নীত হলেও, এ সময়ে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি দেশের রাজস্ব খাতে দ্রুততার সঙ্গে অটোমেশন প্রক্রিয়ার পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কভিড মহামারি মোকাবিলায় ঘোষিত বাজেট কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের অগ্রগতি মূল্যায়নের ওপর জোর দেন। তিনি করোনা মহামারি মোকাবিলায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুততার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিতকরণের প্রস্তাব করেন এবং একই সঙ্গে এসএমই ব্যাংক প্রবর্তন, সিএসএমই খাতের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ ও এসএমই উদ্যোক্তাদের ডেটাবেজ প্রস্তুতকরণে জোরারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বর্তমান সময়ের বিবেচনায় জাতীয় সঞ্চয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং একই সঙ্গে অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকার করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে এবং এ লক্ষ্যে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি সঠিক পথেই পরিচালিত হচ্ছে। উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, সমাজের অতিদরিদ্র এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয় বেশি মাত্রায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রপ্তানির সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও, যেসব দেশে আমাদের প্রবাসীরা বেশি হারে নিয়োজিত রয়েছেন, সেখান থেকে প্রবাসীরা দেশে ফেরত এলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

ড. আতিউর রহমান বলেন, করোনা মহামারির কারণে আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে; তবে করোনা মোকাবিলায় সরকারের নেতৃত্ব সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং বাস্তবতার নিরিখেই সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলেও আমাদের অবস্থান ভালো থাকবে; তবে এ অবস্থা উত্তরণে প্রণোদনা প্যাকেজসহ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নীতিমালার সহজীকরণ এবং ঘোষিত নীতিমালায় এ মুহূর্তে কোনো ধরনের পরিবর্তন উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ওপর আরও বেশি হারে গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান এবং কৃষি ও এমএসএমই খাতকে বেশি হারে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও সহায়তা বেশি করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং এজন্য উদ্যোক্তাদের নীতিসহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নে নীতিসহায়তার পাশাপাশি অর্থ সহযোগিতা প্রদানের প্রস্তাব করেন। আতিউর রহমান বলেন, সবুজ অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের ওপর আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সর্বোপরি তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হইনি; তবে ভবিষ্যতের যাত্রাপথের প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। তিনি স্থানীয় বাজারের চাহিদা বাড়ানো এবং দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়ায় আরও নজর দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি নীতিসহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান এবং বিনিয়োগ কেন কাক্সিক্ষত মাত্রায় হচ্ছে না, তার কারণ খুঁজে বের করার ওপর জোরারোপ করেন।

এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘করোনা সময়ে আমাদের কৃষি খাত সচল ছিল। এছাড়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকায়, খাদ্য ব্যবস্থাপনা সক্রিয় থাকার কারণে আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’ তিনি বলেন, গত জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের রপ্তানি ১ শতাংশ কমেছে, তবে স্থানীয় চাহিদা এবং ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যাংক থেকে কনজুমার ঋণ গ্রহণের হার বেড়েছে।

ডিসিসিআই প্রাক্তন সভাপতি ও বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে আছে, তবে এ অবস্থা উত্তরণে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি কর নীতিমালায় আরও সংস্কার এবং জিডিপিতে করের অবদান আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।

ঢাকা চেম্বারের সহসভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ওয়েবিনারে যোগ দেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..