দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ছয় দিনে বাজার মূলধন নেই ১৬ হাজার কোটি টাকা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজার ঘুরে না দাঁড়াতেই আবারও বড় পতন দেখলেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ৬৯ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশের বেশি পতনের মধ্যে দিয়ে টানা ছয় কার্যদিবসের পতন দেখলেন ভুক্তভোগীরা। ফলে বাজার নিয়ে আবারও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

গত ছয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৭৮ পয়েন্ট। ছয় কার্যদিবস আগে সূচকের অবস্থান ছিল চার হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে। গতকাল তা স্থির হয়েছে চার হাজার ৪৮০ পয়েন্ট। একই সময়ে লেনদেনও কমে ৮৩৭ কোটি টাকা থেকে ৫৬১ কোটি টাকায় চলে এসছে।

এদিকে গত ছয় দিনের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। ছয় কার্যদিবস আগে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডের উইনিট এবং শেয়ারের মোট বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এরপর টানা পতনের বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দর কমে যায়। যে কারণে গতকাল এসব শেয়ার ও ইউনিটের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

গত বছরজুড়ে বেশিরভাগ সময়ই নিম্নমুখী ছিল পুঁজিবাজার। চলতি বছরের শুরুতে তা আরও বড় হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেওয়া কিছু পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করা হয়। মূলত এরপর থেকেই কিছুদিন উত্থান ছিল বাজার। কিন্তু গত ছয় কার্যদিবস ধরে আবার লাগাতার পতন শুরু হয়েছে।

এদিকে উত্থানের ধারা থেকে বের হয়ে টানা পতনে হতাশ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, ‘আমরা চাই বাজারের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা। হঠাৎ দুই-চার দিন বাজার ভালো থাকল আবার অস্বাভাবিক পতন নেমে এলো এমন পুঁজিবাজার আমরা চাই না।’ তারা বলেন, গত বছর বেশিরভাগ সময়ই ডিএসইতে লেনদেন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে ঘুরপাক খায়। কালেভদ্রে দু-একদিন লেনদেন এর বেশি হলেও তা স্থায়ী হয়নি, যা স্বাভাবিক বাজারের লক্ষণ নয়।

গত বছর নির্বাচনের পর কিছুটা চাঙা হয় বাজার তখন কয়েকদিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতে দেখা যায়। কিন্তু এ পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এরপর আবারও পতনের ধারায় ফিরে যায় পুঁজিবাজার। কমে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকের পাশাপাশি বাজার মূলধনও আশঙ্কাজনকহারে কমে যায়। ফলে লেনদেনও তলানিতে নেমে যায়। সম্প্রতি বাজার একটু ভালো হলে তাদের আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু চলমান পতনে তারা বিনিয়োগ নিয়ে আবার দোলাচলে পড়েছেন।

আলাপকালে বাজারসংশ্লিষ্ট জানান, ডিএসইতে গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হওয়া উচিত। কিন্তু বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও হাজার কোটির টাকার ওপরে লেনদেন চোখে পড়ে না। তাদের মতে, ডিএসইতে এখন যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে তাতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন খুবই স্বাভাবিক।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তারা বলেন, পুঁজিবাজারে লেনদেন হ্রাস-বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু লেনদেন হতে হবে সন্তোষজনক। কিন্তু এ বাজারে যে লেনদেন হচ্ছে তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। এটা দেখে বোঝা যায়, বাজারে তারল্য সংকট চলছে। এটা দূর করতে না পারলে বাজার পরিস্থিতি ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেন তারা। তবে কেউ কেউ বাজারের এ পরিস্থিতির কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বাজার পতনের কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই।’ বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে কি নাÑজানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে না থাকলে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে আমি বলব, বিনিয়োগকারীদের হতাশা থেকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লেনদেন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা। বর্তমানে তারাও বাজার থেকে দূরে রয়েছে। যে কারণে এমন হয়েছে বাজার পরিস্থিতি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..