প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ছয় মাসেও বিপিসি’র জেটি মেরামত হয়নি

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। আর বিপিসির মালিকানাধীন তিনটি ডলফিন জেটি ব্যবহার করে পদ্মা, মেঘনা ও ইস্টার্ন রিফাইনারির এসব তেল খালাস করা হয়। কিন্তু পতেঙ্গা গুপ্তখাল এলাকায় মেরামত জটিলতায় প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ পদ্মা অয়েলের জেটি (ডলফিন-৬)। অন্যদিকে জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের জেটিও (ডলফিন-৫) চার মাস ধরে বন্ধ। এতে করে সময়মতো আমদানিকৃত জ্বালানি তেল খালাসে জটিলতায় পড়েছে বিপিসি।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মালিকানাধীন তিনটি ডলফিন জেটির দুটি ব্যবহার অনুপযোগী। এর মধ্যে গত জুলাই মাস থেকে পদ্মা অয়েলের জেটিতে (ডলফিন-৬) বিদেশি জাহাজ হ্যান্ডলিং বন্ধ রয়েছে। আর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মেঘনা পেট্রোলিয়ামের জেটি (ডলফিন-৫) এমটি গ্র্যান্ড এইচ-৮ নামে ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ জেটিতে নোঙর করছিল। বার্থিং করার সময় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জেটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় ৫ নম্বর ডলফিন জেটির চারটি পিলার, জাহাজ নোঙর করার ফেন্ডার ও জেটির স্টিলের কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে জেটিতে জ্বালানি তেলের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারির জেটিটি (ডলফিন-৭) ক্রুড অয়েল খালাসে ব্যবহার করা হলেও পরিশোধিত জ্বালানি খালাসের সুযোগ নেই। এতে আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি খালাসে বিপাকে পড়েছে বিপিসি। পরে বিপিসিকে আমদানিকৃত পরিশোধিত তেলের জাহাজ খালাসের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটি (ডলফিন-৪) ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়। অন্যদিকে জ্বালানি তেল খালাস ও সরবরাহে গতি আনতে বন্দরের ডলফিন জেটি-৩ ব্যবহার করতে আগ্রহী যমুনা অয়েল বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। যদিও জ্বালানি তেল খালাসে পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারির আলাদা ডলফিন জেটি থাকলেও যমুনা অয়েলের কোনো ডলফিন জেটি নেই। তবে অস্থায়ী ভাসমান জেটি ‘এলজে-৩’ দিয়ে জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ দিয়ে এলেও বর্তমানে জেটিটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এটির ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

যমুনা অয়েল সূত্রে জানা গেছে, ভাসমান জেটি ‘এলজে-৩’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বন্দরের জলযান, বাংকার ডিলার, মেরিন ডিলার, ফিশিং ট্রলারসহ বিভিন্ন গ্রাহককে জলপথে জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে আসছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। বর্তমানে জেটিটি অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে এই জেটি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিতে অনীহা জানিয়ে যমুনা অয়েলকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তাছাড়া স্থায়ী জেটি না থাকার কারণে অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য ডলফিন-৩ জেটিটি ব্যবহার করার অনুমতির জন্য বন্দরকে চিঠি দেয় যমুনা অয়েল।

অন্যদিকে বেসরকারি ভোজ্যতেল ও জ্বালানি তেল আমদানিকারকরা বলেন, ডলফিন জেটি ৫ ও ৬ বন্ধ থাকায় ডলফিন জেটি ৩ ও ৪ দিয়ে বিপিসি’র জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো জরুরিভিত্তিতে তেল খালাস করছে। এতে বেসরকারি পর্যায়ের আমদানিকারকদের বাংলাদেশ এডিবয়েল অয়েলের ভোজ্যতেল, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও ইউনিলিভারের আমদানিকৃত ভোজ্যতেল এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের জাহাজ খালাসে অপেক্ষায় থাকতে হয়। আর সময়মতো খালাস করতে না পারায় জাহাজপ্রতি কয়েক হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির মালিকানাধীন ডলফিন-৭ দিয়ে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের জাহাজ হ্যান্ডলিং করার কাজে ব্যবহƒত হয়। কিন্তু পতেঙ্গা গুপ্তখাল এলাকায় মেরামত জটিলতায় প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ পদ্মা অয়েলের জেটি (ডলফিন-৬)। অন্যদিকে জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের জেটিও (ডলফিন-৫) চার মাস ধরে বন্ধ আছে। যদিও কর্তৃপক্ষ জেটি মেরামতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ডলফিন-৬-এর মেরামত কাজ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।