দিনের খবর শেষ পাতা

ছয় মাসে ৮৮ হাজার কোটি টাকা বেড়ে রেকর্ড অবস্থানে

ডিএসইর বাজার মূলধন

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সূচক। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানি ও ফান্ডের ইউনিটদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর জেরে বাড়ছে বাজার মূলধনও। গতকাল এক দিনে বাজার মূলধন পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে চলে যায়। বিষয়টি পুঁজিবাজারের জন্য ভালো বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়ালফান্ডের বাজার মূলধন ছিল পাঁচ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। দিন শেষে তা অবস্থান করে পাঁচ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়ায় পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। ফলে দীর্ঘদিন বাজারের বাইরে থাকা বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসছেন। বাজারে লেনদেন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধনের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। বাজারচিত্র ভালো থাকলে তাদের আগ্রহ বাড়বে এটা সাধারণ বিষয়। তবে এ চিত্রের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। আর বিনিয়োগকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

গতকালের বাজারচিত্র লক্ষ করলে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের অংশ নেয়ার পাশাপাশি শেয়ার ও ইউনিটের চাহিদা বাড়ার কারণে সকাল থেকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে। দিন শেষে এক কার্যদিবসে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ইউনিটের বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরের শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন বছরের পাঁচ মাসে তা বেড়ে হয়েছে পাঁচ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে বাজার মূলধন বেড়েছে ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এদিকে বাজার মূলধনে রেকর্ড সৃষ্টির দিনে সূচকের বড় উত্থানে শেষ হয় লেনদেন। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে স্থির হয় ছয় হাজার ১২৫ পয়েন্টে।

অন্যদিকে সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনে গতকাল বড় উত্থান দেখা যায়। গতকাল ডিএসইতে দুই হাজার ৪৩ কোটি  টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

এদিকে বাজারের এ ধারাবাহিকতাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্ট সবাই। তাদের অভিমত, ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এটা সার্বিক বাজারের জন্য ভালো। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সামনে বাজারের অবস্থা আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজিব আহমেদ নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বর্তমানে বাজার বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে। বেশিরভাগ শেয়ারই এখন কম দামে রয়েছে, যা সহজে ক্রয়যোগ্য। তাছাড়া ধারাবাহিক স্থিতিশীল থাকার কারণে বাজারের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। এটা পুঁজিবাজারের জন্য ভালো বার্তা। আমরা এ ধরনের পুঁজিবাজার চিত্র প্রত্যাশা করি।

অন্যদিকে পুঁজিবাজারের এ পরিস্থিতির জন্য বিনিয়োগকারীরা আস্থা অর্জনের কথা বলেছেন বাংলাদেশ সিউিরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। তাদের আস্থা ফেরার কারণে বাজারে ধারাবাহিক স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..