দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ছোট বিনিয়োগে বড় মুনাফার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে পুঁজিবাজার। যে কারণে একযোগে বাড়ছে ছোট-বড় সব ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর। তবে এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে তুলনামূলক কম দরের শেয়ার। বেশি দরের শেয়ার বিক্রি করে এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন তারা। যে কারণে এ ধরনের শেয়ারদর বেশি বাড়ছে। গত সপ্তাহেও এ ধরনের কোম্পানির আধিপত্য দেখা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার থেকে বেশি লাভবান হচ্ছেন তারা। শেয়ারদর কম থাকায় স্বল্প বিনিয়োগ করেও তারা ভালো লাভ পাচ্ছেন। সেই তুলনায় বেশি দরের শেয়ারে তেমন লাভ পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারী।

গত সপ্তাহের বাজারচিত্র লক্ষ করলে দেখা যায়, এই সময়ে  সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ১০ টাকার নিচে দর রয়েছে এমন শেয়ারের। এ তালিকায় ছিল সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ঢাকা ডায়িং, ম্যাকসন স্পিনিং, জাহিন টেক্সটাইল, কেয়া কসমেটিক, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজ, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড ক্যাপিটালসহ আরও কিছু কোম্পানি। এসব কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।  অন্যদিকে গত এক মাসের ব্যবধানে স্বল্পদরের কিছু শেয়ারদর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।  এই সময়ে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের শেয়ারদর বেড়েছে ৭৭ শতাংশ। এক মাস আগে এই শেয়ারদর ছিল দুই টাকা বিশ পয়সা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে তিন টাকা নব্বই পয়সায়। 

এদিকে একই সময়ে তালিকাভুক্ত কেয়া কসমেটিকসের শেয়ারদর বেড়েছে একাত্তর শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে এ শেয়ারদর চার টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে সাত টাকায় অবস্থান করছে। একই সময়ে ঢাকা ডায়িংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানের এই শেয়ারদর ছয় টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে সাত টাকা ৯০ পয়সায় চলে এসেছে।

একইভাবে এ সময়ে ম্যাকসন স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বাড়ে ২১ শতাংশের বেশি। এক মাসের মধ্যে এ শেয়ারের সর্বনি¤œ দর ছিল পাঁচ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমানে এ শেয়ারের দর অবস্থান করছে ছয় টাকা ৮০ পয়সায়। এছাড়া অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারদরও কাক্সিক্ষত হারে বাড়তে দেখা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, দীর্ঘদিন পর পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, যার জের ধরে সব ধরনের শেয়ারদর বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, যেসব শেয়ারদর ১০ টাকার নিচে রয়েছে, এসব শেয়ার অন্তত অভিহিত দরের ওপরে যাবে। মূলত সে কারণেই এসব শেয়ারদর বাড়ছে। অন্যদিকে ‘জেড ক্যাটেগরি’র কোম্পানির লেনদেন সহজ করাতে কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজার এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে সব ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের কম দামি শেয়ার দেখে সেই কোম্পানিতে ঝুঁকে পড়া ঠিক হবে না। কারণ দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লাভের বদলে এর উল্টো চিত্রও দেখতে হতে পারে। শেয়ারদর যেমনই হোক না কেন, বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দেখা দরকার। একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারের যে কোনো পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে থাকা উচিত। যদিও আমাদের দেশে ভালোমানের কোম্পানির সংখ্যা কম, যা রয়েছে এর মধ্যে থেকে বিনিয়োগকারীদের দেখেশুনে বিনিয়োগ করা উচিত। পাশাপাশি বিএসইসির উচিত হবে বহুজাতিক এবং ভালোমানের কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..