দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

ছোট মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচকে প্রভাব কম

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়লেও সূচক ইতিবাচক হতে পারেনি। আগের দিনের তুলনায় খুব সামান্য কমেছে সূচক। অধিকাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি সত্ত্বেও সূচক উত্থানে ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছোট মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধি ও সূচকে প্রভাব বিস্তারকারী কোম্পানিগুলোর দরপতন। তবে ব্যাংক খাতে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। আর দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বস্ত্রখাত। এসব খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশই ছোট মূলধনি। অন্যদিকে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, আইসিবি, আইডিএলসি, ইউনাইটেড পাওয়ার প্রভৃতি বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো দরপতনে ছিল। এদিন ডিএসইর লেনদেন বেড়ে ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

১৭ শতাংশ বা ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাত। এ খাতে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ন্যাশনাল টিউবসের প্রায় ১৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা। লেনদেনের শীর্ষে এবং দর বৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল কোম্পানিটি। এছাড়া ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধিতে পঞ্চম অবস্থানে ছিল সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজ। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ। এ খাতে ৮০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ভিএফএস থ্রেডের সাড়ে ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে এক টাকা ৯০ পয়সা। স্টাইল ক্রাফটের প্রায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা। ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস। ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি দুই শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদরে কোন সীমা আরোপিত না থাকায় এতটা বেড়েছে শেয়ারটির দর। সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ৯৩ পয়সা লোকসানে আছে। আগের বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছিল ৪৯ পয়সা। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ২০১৮ সালে পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে বি ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। এছাড়া ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে সিমটেক্স দর বৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে। বিমা খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৭০ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। সাড়ে ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয় সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের। ১০ শতাংশ দর বেড়েছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৬২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ওয়াটা কেমিক্যালের সোয়া ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় সাড়ে ১০ টাকা। ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৫৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের সোয়া পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৩০ পয়সা। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতের চার প্রতিষ্ঠান দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। এছাড়া জ্বালানি এবং আর্থিক খাতে ৬৩ শতাংশ করে কোম্পানির দর বেড়েছে। সেবা ও আবাসন, কাগজ ও মুদ্রণ খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল।

সর্বশেষ..