সারা বাংলা

ছোট যমুনায় বাঁধ সংস্কার পুনর্বাসনের দাবি ৮৫ পরিবারের

প্রতিনিধি, জয়পুরহাট

জয়পুরহাট ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত শহররক্ষা বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। এজন্য বাঁধের উত্তর জয়পুর এলাকায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাসরত ৮৫ পরিবারকে উচ্ছেদ নোটিস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় তারা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

বাঁধের উত্তর জয়পুর এলাকার বস্তিতে ৮৫ পরিবারের সাড়ে ৪০০ মানুষ প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাস করছেন। সম্প্রতি যমুনা বাঁধ বস্তি উন্নয়নে জয়পুরহাট পৌরসভা তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নীতকরণ (ইউজিপ-৩) প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দিয়েছে ৮১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৮ টাকা। এক বছরের মধ্যে চার ধাপে এ উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ২০ লাখ টাকা খরচ করে ৪০০ মিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। উন্নয়নকাজ চলমান অবস্থায় সাত দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ২৬ সেপ্টেম্বর বস্তির ৮৫ পরিবারকে নোটিস দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র রায়। নোটিস পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ ঠেকাতে তারা বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, ছোট যমুনা নদীর শহররক্ষা বাঁধে ১৯৮৫ সাল থেকে গড়ে ওঠে উত্তর জয়পুর বস্তি। সেখানে বর্তমানে ৮৫ পরিবারের প্রায় ৪০০ জন বসবাস করছেন। বস্তির উন্নয়নে পৌরসভার পক্ষ থেকে হাতে নেওয়া হয় তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নীতকরণ (ইউজিপ-৩) প্রকল্প। বস্তিবাসীর যোগাযোগের জন্য ওই প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে সড়ক পাকাকরণ ও ১০টি পাকা টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া বস্তির উন্নয়নে পাকা ড্রেন, ডাস্টবিন নির্মাণ, টিউবওয়েল বসানো ও আলোকবাতি সরবরাহ করা হবে। পৌরসভা থেকে নেওয়া এসব উন্নয়ন প্রকল্প বস্তিবাসীদের নতুনভাবে বেঁচে থাকার পথ দেখালেও উচ্ছেদ নোটিস পেয়ে এখন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

বস্তির উন্নয়নে কাজ করা সুমী আক্তার বলেন, ‘সমিতি গঠন করে পাঁচ বছর ধরে পরিশ্রম করার পর পৌরসভার মাধ্যমে ৮১ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে উচ্ছেদ নোটিস পেয়ে আমরা দিশেহারা। আমাদের যদি উচ্ছেদই করা হবে তাহলে উন্নয়নের জন্য পৌরসভা থেকে এতগুলো টাকার প্রকল্প নেওয়া হলো কেন? পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে আমাদের যেন উচ্ছেদ করা না হয়।’

জয়পুরহাট পৌরসভার বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বস্তিবাসীদের উন্নয়নে গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করছি। তাদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছি। তবে বস্তি উচ্ছেদ হলে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। 

জয়পুরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র সেলিমুর রহমান বাবুল বলেন, ‘বস্তিবাসীর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি, প্রশাসনও বস্তিবাসীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।’  

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা মেনে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়েছে। নোটিস গেলেও ভূমিহীন পরিবার হিসেবে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আছে।’

সর্বশেষ..