বিশ্ব বাণিজ্য

ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল সোমবার জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এ দাম সর্বোচ্চ। ইরানের তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাইরে যে কয়েকটি দেশ ছাড় পেয়েছিল, সেসব দেশের ওপরও এবার কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। খবর: রয়টার্স।
সর্বশেষ লেনদেন আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে লন্ডনের ব্রেন্ট তেলপ্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৭৪ ডলার ৩১ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা তিন দশমিক তিন শতাংশ বেশি। গত ১ নভেম্বরের পর এটিই তেলে সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে গতকাল প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছায় ৬৫ ডলার ৮৭ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এ দাম দুই দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। গত অক্টোবরের পর এ দাম সর্বোচ্চ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি একদিকে আন্তর্জাতিক ইরানি পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর আবার আরোপ করেছে নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সিরিয়া ও ইয়েমেনে সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে ইরান। তবে তেল আমদানিতে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তুর্কি, ইতালি ও গ্রিসকে ছয় মাসের জন্য অল্প পরিসরে ইরানের তেল আমদানির সুযোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র জানিয়েছে ওই দেশগুলোকে দেওয়া ছয় মাস সময় শেষ হয়ে গেছে। এবার সব দেশের ওপরই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণেই তেলের দাম বাড়ছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে ওপেকের তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পর জ্বালানি তেলের দাম এমনিতে বাড়ছিল। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এক্ষেত্রে বাড়তি ভূমিকা রেখেছে।
এএনজেড ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দেশটির তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একই সময় ইরানের তেল রফতানিও কমেছে অনেক। দেশটির অশোধিত তেল রফতানি প্রায় ২০ শতাংশ কমে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে আগামী ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বছরের শুরুর দিকে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে তেলের দাম কমে ৫০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তাই দাম বাড়াতে ওপেক ও নন-ওপেক প্রধান উত্তোলক দেশগুলো উৎপাদন হ্রাস করতে সম্মত হয়। এ উদ্যোগে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পণ্যটির দাম আট দশমিক এক শতাংশ বেড়ে যায়। কিন্তু ওপেকের নেওয়া এ পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সর্বশেষ..