বিশ্ব বাণিজ্য

ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে এশিয়ার পুঁজিবাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনের উদ্যোগে কিছুটা আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি শিথিল করছে। এর প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। গতকাল শুক্রবার এশিয়ার পুঁজিবাজার সূচক ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। খবর: রয়টার্স।
জাপান বাদে এশিয়ার সার্বিক সূচক গতকাল বেড়েছে দশমিক পাঁচ শতাংশ। গত ১ আগস্টের পর এদিন ছিল সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। এছাড়া জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং চীনের সাংহাই সূচক বেড়েছে দশমিক ৭৫ শতাংশ। ভারতের সেনসেক্স সূচকও বেড়েছে দশমিক ৭৬ শতাংশ। এদিন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারও ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়।
চীনের ২৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে বিদ্যমান শুল্কহার বাড়ানোর যে ঘোষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, আপতত সে পথে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট বার্তায় বলেছেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কারোপের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হলো। তিনি জানিয়েছেন, চীনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক কার্যকরের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হলো। এর আগে চীনও কিছু মার্কিন পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি বাণিজ্য সংকট নিরসনে দুই দেশ আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি কাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব পুঁজিবাজারে।
গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। এরই মধ্যে গত মাসে নতুন করে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে ‘স্বল্প সময়ের’ জন্য এ ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বেড়ে এটি ২৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘চীনের সঙ্গে এমনটা করা অনেক আগেই কারও উচিত ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক বছরেরও আগে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ প্রথম মার্কিন তেলের ওপর শুল্কারোপ করেছে চীন। এছাড়া দুপক্ষই চলতি বছরের শেষের দিকে পরস্পরের পণ্যের ওপর আরও বাড়তি শুল্কারোপ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি বলেছিল, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এসব বাড়তি শুল্কারোপের কারণে চীনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না। পত্রিকাটি বলছে, চীনের বিস্ফোরণোম্মুখ অর্থনীতি এখানকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রকে এত বেশি উর্বর করেছে যে, বিদেশি কোম্পানিগুলো তা উপেক্ষা করতে পারবে না।

সর্বশেষ..