প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ছয় হাজার পয়েন্টের নিচে নামল ডিএসইএক্স সূচক

নিজস্ব প্রতিবেদক: উভয় পুঁজিবাজারে গতকাল নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেন  ও সূচক কমার পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ৬৭ শতাংশের। লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়ের চাপে সূচক ধারাবাহিকভাবে নামতে থাকে। বেলা ১টার দিকে ক্রয় চাপ সামান্য বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি।  শেষ পর্যন্ত ৫৯ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যায় সূচক।  সব খাতে শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল। ব্যাংক খাতে মাত্র একটি কোম্পানির দর বেড়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব সূচক নিম্নমুখী ছিল। বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হয়, তবে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এর কারণ ব্যাংক এশিয়ার এককভাবে ৩২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৫৯ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৯৮১ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক সাত দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৩২৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে আর ডিএস৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে দুই হাজার ১৭৪ দশমিক ৫১ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন কমে চার লাখ ছয় হাজার ৬৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়।

ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৫২৩ কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৪৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এদিন ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬১টি শেয়ার এক লাখ সাত হাজার ৫৫ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ২২৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দর।

টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বিবিএস কেবল্স। ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৪ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৪টি শেয়ার লেনদেন হয়। গতকাল শেয়ারটির দর তিন টাকা ১০ পয়সা কমেছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল আমরা নেট, লংকাবাংলা

ফাইন্যান্স, জিপি, ইফাদ অটোস, ব্র্যাক ব্যাংক, রংপুর ফাউন্ড্রি, উত্তরা ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও আইসিবি। পাঁচ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সাফকো স্পিনিং। পাঁচ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে শাশা ডেনিমসের। এরপরে পাঁচ দশমিক ৫১ শতাংশ বাড়ে বিডি অটোকারের। স্টাইল ক্রাফটের দর বেড়েছে চার দশমিক ৯৯ শতাংশ ও রেকিট বেনকিজারের দর বেড়েছে চার দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ দর কমেছে জিল বাংলার। শ্যামপুর সুগারের দর ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, মডার্ন ডায়িংয়ের দর আট দশমিক ৬৬ শতাংশ, রহিম টেক্সটাইলের দর আট দশমিক ৪০ শতাংশ ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের দর সাত দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ১০৫ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ২১৬ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৮  পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৫৫২ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল দিনজুড়ে ২৩৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৫২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর।

সিএসইতে এদিন ৫৫ কোটি ৯৫ লাখ ৬২ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪২ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংক এশিয়া।  কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর এনসিসি ব্যাংকের এক কোটি ৮৬ লাখ টাকার, আমরা নেটের এক কোটি ৭১ লাখ, এনবিএলের ৯৬ লাখ, বিবিএস কেবল্সের ৯৫ লাখ, বিকন ফার্মার ৫৭ লাখ, লংকাবাংলার ৫৪ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৫০ লাখ, বেক্সিমকোর ৪৯ লাখ ও ডরিন পাওয়ারের ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।