জনতা ব্যাংকের পাঁচ শাখায় ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পাঁচ শাখায় ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ ৭২ শতাংশ ঋণ এ শাখাগুলোয় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। শাখাগুলো হলো জনতা ব্যাংক লোকাল অফিস, জনতা ভবন করপোরেট শাখা, চট্টগ্রামে সাধারণ বিমা ভবন করপোরেট শাখা, দিলকুশা ও মতিঝিল করপোরেট শাখা।

তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির বর্তমান শাখার সংখ্যা ৯১৭টি। চলতি বছর জুন শেষে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু ঋণের বেশিরভাগ এখন কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে কয়েকটি শাখায়, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৪৫ হাজার ৬৬২ কোটি। শাখাগুলোর মাধ্যমে বিতরণকৃত এসব ঋণের মধ্যে ছয় হাজার ৬২৯ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সেপ্টেম্বরে এক লাখ কোটি টাকার আমানত সীমা অতিক্রম করেছে জনতা ব্যাংক। তাই ব্যাংকের ঋণ বিতরণ সীমা বৃদ্ধি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায় ব্যাংক। গত ৪ নভেম্বর সমন্বিত ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করে জনতা ব্যাংককে অবহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শীর্ষ পাঁচে থাকা ওই শাখাগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা যাবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব শাখায় বড় গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়লে বা ঋণ আটকে গেলে আদায় করতে বেগ পেতে হয়। এজন্য ঋণ বিতরণে অধিক গ্রাহক ও এলাকা বিস্তৃত করার কোনো বিকল্প নেই।

জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ঋণ আদায়ের জন্য যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক মামলা করা হয় তারা সবাই প্রভাবশালী। মামলা করলেও তারা সেই মামলা আটকাতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে। ফলে অনেক খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরও ভালো হতো। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে দ্রুত রিট মামলাগুলো ভ্যাকেট করার জন্য।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ শেয়ার বিজকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি আমরা পেয়েছি। সেটা পরিপালনও করছি। ওই পাঁচ শাখার মাধ্যমে এখন ঋণ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। অন্য শাখাগুলোর মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, করোনার মধ্যেও আমাদের আদায় হার অনেক ভালো। শীর্ষ খেলাপি, অন্যান্য খেলাপি ও অবলোপন থেকে আদায়ের হারও বেড়েছে। বছর শেষে জনতা ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন আব্দুছ সালাম আজাদ।

এ মুহূর্তে জনতা ব্যাংকের বড় সংকট হিসেবে সঞ্চিতি ঘাটতির বিষয়টি এজিএমে উঠে এসেছে। খেলাপি ঋণ বেশি হওয়ায় বড় ধরনের সঞ্চিতি ঘাটতিতে পড়েছে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে জনতা ব্যাংক পাঁচ হাজার ৩১৩ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে। ব্যাংকটির মোট খেলাপির পরিমাণ ১৩ হাজার ৮৩৭ কোটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে খেলাপি ঋণ ১২ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা বেড়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ খেলাপির খাতায় উঠেছে। ২০১৯ সালে দেশের ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১২১  জন  

সর্বশেষ..